বন্দে মাতরম্ নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! এবার গাইতে হবে সবকটি স্তবক, জারি হলো নতুন সরকারি নির্দেশিকা

ভারতের জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গানের মর্যাদায় এবার এক বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গত ২৮ জানুয়ারি জারি করা এক নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে দেশের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবকই গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা জাতীয় গানের প্রোটোকল সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর হতে চলেছে।
জাতীয় গানের নতুন প্রোটোকল নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সংগীত (জন গণ মন) এবং জাতীয় গান (বন্দে মাতরম্) উভয়ই পরিবেশিত হয়, তবে ‘বন্দে মাতরম্’ আগে গাইতে হবে। গানটি চলার সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তবে সিনেমা হলে কোনো চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্রের অংশ হিসেবে গানটি বাজলে দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
কেন এই পরিবর্তন? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তে ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে গানটির শেষ চারটি স্তবক বর্জন করা হয়েছিল। মোদী সরকারের মতে, রাজনৈতিক কারণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টিকে খণ্ডিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে জাতীয় প্রতীকের সম্মান পুনরুদ্ধার করা হলো।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগ ও কিছু নেতার আপত্তির মুখে জওহরলাল নেহেরু এবং তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব গানটির প্রথম দুটি স্তবককেই জাতীয় ক্ষেত্রে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ পরবর্তী স্তবকগুলিতে দেবী দুর্গা বা লক্ষ্মীর উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীককে এভাবে খণ্ডিত রাখা উচিত নয়।
কোথায় কোথায় বাধ্যতামূলক?
সমস্ত সরকারি এবং রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠান।
পদ্ম পুরস্কারসহ যাবতীয় অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান।
রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান।
স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক সমাবেশ।