সংসদে রণক্ষেত্র! স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিরোধীদের, ১০ ফেব্রুয়ারি উত্তপ্ত দিল্লি

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে মঙ্গলবার সংসদীয় রাজনীতির পারদ চড়ল তুঙ্গে। একদিকে যখন বিজেপি এই বাজেটকে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার মাইলফলক হিসেবে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধেই সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এদিন ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দেন। বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার তাঁর সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে বিরোধী সদস্যদের নিশানা করছেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, তৃণমূল কংগ্রেস এই নোটিশে স্বাক্ষর করেনি।

লোকসভায় আলোচনার সূত্রপাত করে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর মির্জা গালিবের শায়েরি আউড়ে সরকারকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “হাম কো মালুম হ্যায় জন্নত কি হাকিকত লেকিন, দিল কে খুশ রখনে কো গালিব ইয়ে খেয়াল আচ্ছা হ্যায়।” থারুরের দাবি, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান খরচ, বেকারত্ব এবং বৈষম্যকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির অপরাজিতা সারঙ্গী এই বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ তকমা দিয়ে জানান, ভারত আজ বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

পিছিয়ে ছিলেন না সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, এটি ‘ডিল’ নয় বরং ‘ঢিল’ (শিথিলতা)। তাঁর প্রশ্ন, যদি এই ধরনের চুক্তিতেই আসতে হতো, তবে ১১ মাস অপেক্ষা করানো হলো কেন? অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, বিজেপি বাংলার মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই সরকার ‘জন্ম থেকে মৃত্যু’—সবকিছুর ওপর কর চাপিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। রাজ্যসভাতেও অনলাইন গেমিং নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাকরণের ডিজিটাল পোর্টাল ‘ইউ-উইন’ নিয়ে সরব হন সদস্যরা। সব মিলিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় ডায়েরি রইল চরম সংঘাত ও রাজনৈতিক তরজায় ঠাসা।