আমেরিকান বনাম ভারতীয় কৃষক: একপাশে কোটি টাকার প্রযুক্তি, অন্যপাশে ঋণের বোঝা! কেন এত পার্থক্য?

ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক চুক্তির আবহে দুই দেশের কৃষকদের তুলনা এখন আলোচনার তুঙ্গে। যেখানে আমেরিকান কৃষকদের কাছে কৃষি একটি উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্যবসা, সেখানে ভারতের অধিকাংশ কৃষকের কাছে এটি কেবল জীবনধারণের লড়াই। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের মূল কারণগুলি।

১. জমির মালিকানা ও স্কেল: আমেরিকায় একজন গড় কৃষকের হাতে থাকে প্রায় ৪৪০-৪৪৫ একর জমি। সেখানে খামারগুলো হাজার হাজার একর জুড়ে বিস্তৃত। অন্যদিকে, ভারতে গড় খামারের আয়তন মাত্র ২.৭ একর। ফলে আমেরিকান কৃষকরা যান্ত্রিকীকরণের পুরো সুবিধা পেলেও ভারতীয় কৃষকরা ছোট জমিতে তা পারেন না।

২. প্রযুক্তির মহাকাশ গবেষণা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন, জিপিএস এবং এআই (AI) চালিত চালকহীন ট্রাক্টর সাধারণ বিষয়। স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে তারা বুঝতে পারে ক্ষেতের কোন অংশে জল বা সার প্রয়োজন। ভারতে প্রযুক্তির অর্থ আজও কেবল একটি ট্রাক্টর ভাড়া করা।

৩. ভর্তুকির বিপুল বৈষম্য: আমেরিকান কৃষকরা বছরে গড়ে ৩০,০০০ ডলার (প্রায় ২.৬ মিলিয়ন টাকা) সরাসরি সরকারি সহায়তা পান। ভারতে ‘পিএম-কিষাণ’ প্রকল্পে একজন কৃষক বছরে পান মাত্র ৬,০০০ টাকা। আমেরিকায় সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আয় শহরের মানুষের সমান রাখা, আর ভারতে লক্ষ্য হলো কৃষকদের অনাহার ও ঋণ থেকে বাঁচানো।

৪. ব্যবসায়িক মডেল: আমেরিকান কৃষকরা ফসল ফলানোর আগেই বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানির (যেমন কারগিল বা পেপসিকো) সাথে চুক্তি করেন। ভারতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) থাকলেও লাভের গুড় অনেক সময়ই মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যায়।