ক্লাসরুমেই প্রেমিকার মাথায় গুলি করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা! ল-কলেজের ছাত্র প্রিন্স এখন ভেন্টিলেটরে

পাঞ্জাবের তারন তারানে একটি আইন কলেজের ক্লাসরুমের ভেতর ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সহপাঠী সন্দীপ কৌরকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করার পর নিজের মাথাতেও গুলি চালায় ঘাতক ছাত্র প্রিন্স রাজ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সন্দীপের, অন্যদিকে প্রিন্স বর্তমানে অমৃতসরের গুরু নানক দেব হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

চিকিৎসকরা কী বলছেন? হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট করমজিৎ সিং জানিয়েছেন, প্রিন্সের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। গুলিটি তার মস্তিষ্কের ভেতরে আটকে রয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা তার বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সিটি স্ক্যান রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বপ্নভঙ্গের করুণ কাহিনী: নিহত সন্দীপ কৌর ছিলেন সাত বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান সন্দীপকে নিয়ে তাঁর পরিবার অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তাঁর বড় বোন দিনমজুরি করে এবং ছোট বোন নিজের পড়াশোনা শিকেয় তুলে সন্দীপের আইনি শিক্ষার খরচ জোগাতেন, যাতে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের হাল ধরতে পারেন। এক বছর আগেই সন্দীপের বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় ক্লাসরুমের ভেতর সহপাঠী প্রিন্সের চালানো গুলিতে নিভে যায় সেই লড়াকু প্রাণ।

পরিবারের ক্ষোভ ও বিচার দাবি: অভিযুক্ত প্রিন্স এক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান, যার বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সন্দীপের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে দেরি করছে। পিস্তলটি কোথা থেকে এল এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত সন্দীপের শেষকৃত্য সম্পন্ন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার। বর্তমানে পাঞ্জাব পুলিশ প্রিন্সের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।