সাবেক সেনাপ্রধানের বই নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত! পেন্টাগন নয়, পেঙ্গুইনের ‘মিথ্যা’ ফাঁস করলেন রাহুল গান্ধী?

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নরভনের আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ (Four Stars of Destiny) নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে অভূতপূর্ব ঝড় উঠেছে। লোকসভার ভেতরে নেতা বিরোধী দল রাহুল গান্ধী এই বইটির একটি হার্ড কপি প্রদর্শন করে এটিকে ‘সত্যের দলিল’ বলে দাবি করতেই বিতর্কের সূত্রপাত। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রকাশনা সংস্থা ‘পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া’ দাবি করছে যে বইটি এখনও প্রকাশিতই হয়নি, সেখানে জেনারেল নরভনের একটি পুরনো টুইট এই পুরো দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
সংসদে বই রহস্য ও পেঙ্গুইনের সাফাই সংসদে রাহুল গান্ধী বইটির হার্ড কপি দেখানোর পর পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া এবং সরকার দাবি করে যে, এটি ‘অবৈধ’ এবং ‘অপ্রকাশিত’। পেঙ্গুইনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই এই বই বাজারজাত করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। তবে এই যুক্তিতে জল ঢেলে দিয়েছেন খোদ নরভনের একটি পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০২৩ সালের সেই পোস্টে সাবেক সেনাপ্রধান নিজে আমাজনের লিঙ্ক শেয়ার করে লিখেছিলেন, “নমস্কার বন্ধুরা, আমার বইটি এখন পাওয়া যাচ্ছে। লিঙ্কটি অনুসরণ করুন। জয় হিন্দ।”
“আমি নরভনকে বিশ্বাস করি, পেঙ্গুইনকে নয়” প্রকাশনা সংস্থার সাফাইয়ের পাল্টা জবাবে রাহুল গান্ধী সরব হয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “হয় নরভনজি মিথ্যে বলছেন, নয়তো পেঙ্গুইন। আমি মনে করি না দেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান মিথ্যে বলবেন। তিনি নিজেই যখন টুইট করে বইটি কেনার কথা বলেছিলেন, তখন পেঙ্গুইন আজ কেন বলছে এটি অপ্রকাশিত?” রাহুলের অভিযোগ, এই বইটিতে লাদাখ ও চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে এমন কিছু অস্বস্তিকর সত্য রয়েছে যা প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্র সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে, তাই সরকার এই বইটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ বিতর্ক বাড়ার পর দিল্লি পুলিশ এই বই সংক্রান্ত বিষয়ে এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া আইনি হুঁশিয়ারি দিলেও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে—যদি বই ছাপাই না হয়ে থাকে, তবে সাবেক সেনাপ্রধান নিজে কেন এর লিভ শেয়ার করেছিলেন? লদাখ সীমান্তে ভারতের প্রকৃত অবস্থান এবং সেনাপ্রধানের সেই সময়ের ভূমিকা নিয়ে এই বইয়ের প্রতিটি পাতা এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।