হাসিনা হীন বাংলাদেশে কার দখলে যাবে মসনদ? বিএনপি নাকি জামায়াত— ১২ ফেব্রুয়ারির মহারণ নিয়ে তোলপাড় দুনিয়া!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপি কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া সহানুভূতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিএনপিকে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তবে লড়াই মোটেও সহজ নয়। জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স করার লক্ষ্যে ময়দানে নেমেছে। বিশেষ করে দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতি জামায়াতকে তরুণ ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আওয়ামী লীগ’-এর শূন্যস্থান। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাঙ্ক ও দোদুল্যমান ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া দুই দলই। এমনকি রমেশ চন্দ্র সেনের মতো হিন্দু নেতাদের বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি দেখানোও সেই রণকৌশলেরই অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু ভোট এবার নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদিও বিএনপি হিন্দুদের কাছে ঐতিহাসিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য, তবে জামায়াতও এবার তাদের ‘কট্টরপন্থী’ তকমা ঝেড়ে ফেলে সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ছে। জামায়াত ও তাদের সহযোগী দলগুলোর পাকিস্তান এবং চীন প্রীতি ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দুর্নীতি ও আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতির বাজারে ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটাই এখন দেখার।