ইপিএস পেনশন কি ১০০০ টাকাই থাকবে? বড় দুঃসংবাদ দিল কেন্দ্র, মাথায় হাত প্রবীণদের!

বর্তমানে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বেসরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি বা সরকারি কর্মচারীদের বছরে দুবার মহার্ঘ ভাতা (DA) বাড়লেও, ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন দেশের লক্ষ লক্ষ ইপিএস পেনশনভোগীরা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ মাত্র ১০০০ টাকাতেই আটকে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রবীণ নাগরিকরা আশা করেছিলেন যে এবার হয়তো সুদিন আসবে, কিন্তু বাস্তবে ফলাফল শূন্য।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মুহূর্তে ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। যদিও প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য খাতে কিছু বাড়তি সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু মাসিক পেনশনের অঙ্ক ৭,৫০০ টাকা করার দীর্ঘদিনের দাবি এবারও পূরণ হয়নি। ২০১৪ সালে শেষবার ন্যূনতম পেনশনের সীমা ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি যে হারে বেড়েছে, তাতে এই সামান্য টাকায় জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টও পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে তহবিলে অর্থের তীব্র সংকট রয়েছে। ৩১ মার্চ ২০১৯ সালের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে যে, কর্মচারী পেনশন প্রকল্পের (EPS) তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তাই এখনই মহার্ঘ ভাতা প্রদান করা বা পেনশনের অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মীর মূল বেতনের ৮.৩৩ শতাংশ নিয়োগকর্তা ইপিএস তহবিলে জমা দেন এবং সরকার অতিরিক্ত ১.১৬ শতাংশ অনুদান দেয়। কিন্তু এই জমানো অর্থ দিয়ে পেনশনের পরিমাণ ৭,৫০০ টাকা করা বর্তমান আর্থিক কাঠামোতে কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছে কেন্দ্র। সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ পালন এবং পেনশন বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা চললেও, নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ এখনও স্থির করা হয়নি। ফলে এই দুর্মূল্যের বাজারে প্রবীণ নাগরিকদের আপাতত সেই পুরনো ১০০০ টাকাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।