চোখের পলকে ১০০ কিমি গতি, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না! কানপুরে ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনার হাড়হিম করা সিসিটিভি

গতির নেশা নাকি ক্ষমতার দম্ভ? উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ভিআইপি রোডে রবিবারের দুপুর এক লহমায় বদলে গেল রণক্ষেত্রে। এক তামাক ব্যবসায়ীর ছেলের বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি সুপারকারের ধাক্কায় গুরুতর জখম হলেন অন্তত ৬ জন পথচারী। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ঘাতক গাড়িটি বেশ কয়েকটি যানবাহনকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। বর্তমানে পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িটি সাধারণ কোনো ল্যাম্বরগিনি নয়, এটি ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘ল্যাম্বরগিনি রেভুলেটো’ (Lamborghini Revuelto)। ভারতে যার এক্স-শোরুম মূল্য প্রায় ৮.৮৯ কোটি টাকা। অন-রোড ট্যাক্স এবং কাস্টমাইজেশন মিলিয়ে এর দাম ১০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতে লঞ্চ হওয়া এই গাড়িটি মূলত বিখ্যাত অ্যাভেন্টেডর (Aventador) মডেলের উত্তরসূরি।

কারিগরি দিক থেকে এই গাড়িটি একটি দানব। এতে রয়েছে ৬.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড V12 ইঞ্জিন, যার সাথে যুক্ত তিনটি ইলেকট্রিক মোটর। হাইব্রিড প্রযুক্তির এই গাড়িটি সম্মিলিতভাবে ১০১৫ হর্সপাওয়ার এবং ৮০৭ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে এটি ০ থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ স্পর্শ করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। কিন্তু ভারতের ঘিঞ্জি রাস্তায় এই বিপুল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা যে কতটা কঠিন, কানপুরের এই দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ।

নান্দনিকতার দিক থেকেও রেভুলেটো অনন্য। এতে রয়েছে সিজার ডোর (Scissor Doors), ওয়াই-শেপড এলইডি লাইট এবং ফাইটার জেটের মতো ইন্টেরিয়র। ভারতের বাজারে এই গাড়ির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ফেরারি এসএফ৯০ স্ট্র্যাডলে (Ferrari SF90 Stradale)। ২০২৫ সালে ল্যাম্বরগিনি ভারতে মাত্র ১১১টি ইউনিট বিক্রি করেছিল, যা থেকে বোঝা যায় এটি কতটা দুষ্প্রাপ্য। তবে এই আভিজাত্যই এখন প্রশ্নের মুখে, কারণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ গতির উন্মাদনার কাছে পরাজিত।