মাস গেলেই অ্যাকাউন্টে ১৭০০ টাকা! ২০২৬-এর আগে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনদের জন্য খুশির খবর! রাজ্য সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ আসতে চলেছে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালকে সামনে রেখে এই প্রকল্পকে আরও জনমুখী এবং সহজতর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। বিশেষ করে যারা এতদিন নথিপত্রের অভাবে আবেদন করতে পারছিলেন না, তাদের জন্য খুলে গেল বন্ধ দরজা।

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের বাধ্যবাধকতা আর নেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সবথেকে বড় আপডেট হলো কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম। এতদিন এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এর ফলে অনেক মহিলারই আবেদন বাতিল হয়ে যেত বা তারা আবেদন করতে পারতেন না। কিন্তু নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ছাড়াও আবেদন করা যাবে। কার্ড না থাকলে আবেদন বাতিল হবে না, বরং সরাসরি আধার কার্ড ও অন্যান্য নথির ভিত্তিতেই মিলবে মাসিক ভাতা।

ভাতার পরিমাণ একলাফে বৃদ্ধি রাজ্য সরকার কেবল নিয়ম শিথিল করেনি, বাড়িয়েছে ভাতার অঙ্কও। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে:

সাধারণ শ্রেণী (General): ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০০ টাকা।

তপশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST): মাসিক ভাতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০০ টাকা।

কারা আবেদন করতে পারবেন? সুবিধা যাতে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তাই কিছু শর্ত রাখা হয়েছে: ১. আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ২. বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। (৬০ বছর পার হলে সরাসরি বার্ধক্য ভাতা পাবেন)। ৩. সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত পেনশনভোগীরা এই সুবিধা পাবেন না।

আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথি: আবেদন করার জন্য আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবই (IFSC কোড সহ), রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং কাস্ট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রয়োজন। বিডিও অফিস বা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দেওয়া যাবে। যারা সঠিক ভাবে নথি জমা দিয়েছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। মার্চ মাস থেকে নতুন আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও মিলবে বর্ধিত ভাতার টাকা।