চোখের জলে ভাসলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা! ২৫০ কোটির রিপোর্ট কার্ডে কি চমক দিলেন দিল্লির নেত্রী?

দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি আজ আর কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে আবেগ, সংগ্রাম এবং সেবার এক অনন্য সংমিশ্রণ। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা শালিমার বাগে যখন পা রাখলেন, তখন রাজনীতির প্রথাগত গাম্ভীর্য ছাপিয়ে বেরিয়ে এল এক সাধারণ মানুষের আবেগঘন রূপ। পিতমপুরার জেলা উদ্যানে আয়োজিত এক জনসভায় এক বছরের কাজের খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করতে গিয়ে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিনগর থেকে পিতমপুরায় আসা সেই সাধারণ মেয়েটি কোনোদিন ভাবেনি যে, এই রাস্তাগুলোই তাকে একদিন দিল্লির সেবা করার সুযোগ দেবে।” স্কুল-কলেজের দিনগুলো আর পাড়ার চেনা মুখগুলোর কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ বারবার বুজে আসছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শালিমার বাগ তাঁর কাছে কোনো রাজনৈতিক ক্ষেত্র নয়, বরং এটি তাঁর পরিবার। এখানকার বাসিন্দারা তাঁর ভাই-বোন, কন্যা এবং প্রতিবেশী।

২৫০ কোটি ও ৫০০০ কোটির উন্নয়ন যজ্ঞ: মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, শুধুমাত্র শালিমার বাগ বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন বা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জেলা উদ্যানের আধুনিকীকরণ, নতুন গেট, ফোয়ারা এবং উন্নত শৌচাগার তৈরির মতো জনহিতকর কাজ রয়েছে। তবে সবথেকে বড় চমক ছিল মুনাক খালের ধারে প্রস্তাবিত ৫,০০০ কোটি টাকার ‘এলিভেটেড রোড’ প্রকল্প। এই প্রকল্প দিল্লির যানজট মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হতে চলেছে। এছাড়াও মডেল স্কুল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং আধুনিক আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুপ্রেরণা: নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রের সাথে দিল্লির এই ডাবল ইঞ্জিন সমন্বয়ই উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। মেট্রো সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি—দিল্লি আজ এক আধুনিক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। ২৭ বছর পর ২০২৫ সালে বিজেপির এই প্রত্যাবর্তনকে তিনি জনগণের আস্থার জয় হিসেবেই দেখছেন।