“তৃণমূল চলে গেছে, বিদায় নিশ্চিত!” নদীয়ায় দাঁড়িয়ে মমতার সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি শমীক ভট্টাচার্যের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে বাংলায়। আর তার আগেই তৃণমূল সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় ভবিষ্যৎবাণী করলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার নদীয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের উপস্থিতিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো সরকার নেই, তৃণমূল চলে গেছে, তৃণমূল চলে যাবে।” শমীকের দাবি, তৃণমূলের বিদায় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বাংলাকে আলাদা রাষ্ট্র ভাবার অভিযোগ: বিজেপি নেতা এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে বলেন, যারা বর্তমানে নবান্নে বসে আছেন, তারা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ নয় বরং একটি আলাদা রাষ্ট্র বা দেশ হিসেবে দেখেন। রাজ্যে হিন্দিভাষী ও বাংলাভাষীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেন যে, এই বৈষম্য বজায় থাকলে রাজ্যের সাধারণ মানুষকেই চরম খেসারত দিতে হবে।

ভাতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তোপ: এদিন এক তাঁতশিল্পী মহিলার উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একজন বয়স্ক মহিলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে সংসার চালাতে দিনে অন্তত ৫০০ টাকা দরকার। অর্থাৎ মাসে ১৫ হাজার টাকা। সেখানে ১,৫০০ টাকায় কিছুই হয় না। মুখ্যমন্ত্রীকে মহিলাদের অন্তত ৩,০০০ টাকা করে দিতে হবে।” নদীয়া থেকে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকের ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ৫,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মানুষ ট্রেনের কামরায় গাদাগাদি করে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পালাচ্ছে?

সংকল্প পত্র ও আগামী লক্ষ্য: বিজেপির ‘বিকশিত বাংলা সংকল্প পত্র’ অভিযানের কথা উল্লেখ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি এমন এক সরকার গড়তে চায় যা হবে সর্বব্যাপী এবং সর্বস্পর্শী। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আগামী দিনের রোডম্যাপ তৈরি করাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।