নির্বাচনের মুখে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ! ছাত্রনেতা উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে উত্তাল ঢাকা, রণক্ষেত্র শাহবাগ

১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক আগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ছাত্রনেতা এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাজধানী ঢাকা এখন কার্যত রণক্ষেত্র। শুক্রবার ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শাহবাগ চত্বর ছাড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। লাঠিচার্জ, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ।

কার এই উসমান হাদি? উসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান মুখ, যার জেরে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির সমর্থকদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং তাঁরা এর রাষ্ট্রসংঘ (UN) চালিত তদন্তের দাবিতে অনড়।

রক্তাক্ত ঢাকা ও প্রশাসনের ভূমিকা: শুক্রবারের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পুলিশ শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এবং বাংলা মোটর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। পাল্টা ইট-বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (OHCHR) মাধ্যমে তদন্তের আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার বিচারে বিলম্ব করছে।

আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু ও ঘনীভূত উত্তেজনা: সহিংসতার মাঝেই খবর আসে যে, কারাবন্দি অবস্থায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রমেশচন্দ্র সেনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ৬ দিন আগে এই ধরণের অস্থিরতা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।