“পরীক্ষা মানে আতঙ্ক নয়, উৎসব!” নবম ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-য় পড়ুয়াদের জীবনের পাঠ দিলেন মোদী

বোর্ড পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে ফের একবার ‘অভিভাবক’ রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোক কল্যাণ মার্গে আয়োজিত “পরীক্ষা পে চর্চা”-র নবম সংস্করণে তিনি কেবল পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের টিপসই দেননি, বরং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জীবনের গভীর শিক্ষাও প্রদান করেছেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক প্রতীক ‘গামছা’র মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। মোদী স্পষ্ট ভাষায় তরুণ প্রজন্মকে অনলাইন জুয়া এবং বাজি ধরার মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকার কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, শেখার প্রক্রিয়াকে একটি দক্ষতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, কেবল ডিগ্রির পেছনে ছুটলে চলবে না। বর্তমান সময়ের সবথেকে আলোচিত বিষয় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (AI)-কে শত্রু নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এআই যেন সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন না করে, বরং মানুষের সহায়কের ভূমিকা পালন করে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই প্রচেষ্টাকে কেবল একটি অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে ২০৪৭ সালের ‘উন্নত ভারত’ গড়ার কারিগর হিসেবে প্রস্তুত করার মিশন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন যে, বিটেক বা এমবিএ ডিগ্রির চেয়েও বড় হলো বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ এবং পরিশ্রম। কখনও হনুমান, কখনও অভিমন্যুর উদাহরণ টেনে তিনি পড়ুয়াদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে চেনার কথা বলেন। মোদীর এই আন্তরিক আলাপচারিতা ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ভাষায় এক দৃশ্যমান আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে, যা আগামী দিনে তাদের পরীক্ষার ভয় জয় করতে সহায়ক হবে।