দাঁত দিয়ে মোবাইল ব্যাটারি পরীক্ষা করতেই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আত্মারাম খাঁচাছাড়া নেটিজেনদের

একটি ছোট্ট কৌতূহল বা অসাবধানতা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার প্রমাণ দিল দিল্লির একটি মোবাইল দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ছেলে মোবাইল ফোনের লিথিয়াম ব্যাটারি দাঁত দিয়ে কামড়ানোর চেষ্টা করতেই তা মুখে সজোরে বিস্ফোরিত হয়। এই ভয়াবহ ঘটনায় ছেলেটি গুরুতর আহত হয়েছে এবং তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছেলেটি একটি মোবাইল সার্ভিস কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাতে ছিল একটি ফোনের ব্যাটারি। অনেকটা খেলার ছলে বা ব্যাটারিটি ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করার জন্য সে সেটিকে মুখে দিয়ে দাঁত দিয়ে চাপ দেয়। পরের মুহূর্তেই ব্যাটারির রক্ষাকবচ বা আবরণটি ছিদ্র হয়ে যায় এবং তীব্র আগুনের গোলার মতো বিস্ফোরণ ঘটে। দোকানের কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও দ্রুত ছেলেটির সাহায্যে এগিয়ে আসেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি আসলে ‘থার্মাল রানওয়ে’ নামক একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। যখনই লিথিয়াম ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ অংশ বাতাস বা চাপের সংস্পর্শে আসে, তখন এটি প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়।

আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অত্যন্ত সাধারণ হলেও, এর ভেতরে সঞ্চিত থাকে বিপুল শক্তি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, ব্যাটারি ছিদ্র করা, বাঁকানো বা দাঁত দিয়ে কামড়ানো আত্মঘাতী হতে পারে। যদি কোনও ব্যাটারি ফুলে যায় বা লিক করে, তবে সেটি ব্যবহার করা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। শিশুদের নাগালের বাইরে ব্যাটারি রাখা এবং নির্দিষ্ট রিসাইক্লিং সেন্টারে তা নষ্ট করা জরুরি। এই ভাইরাল ভিডিওটি জনসাধারণের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পকেটে থাকা ফোনটিও সঠিক দেখভালের অভাবে বিপজ্জনক বোমা হয়ে উঠতে পারে।