মোবাইল গেমিংয়ের নেশায় ৩ বোনের মর্মান্তিক পরিণতি! শিক্ষা ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক বদল আনল মহিলা কমিশন

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। মোবাইল গেমিংয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা তিন সহোদর বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এই মর্মান্তিক পরিণতির পর শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ‘ডিজিটাল আসক্তি’ বা ডিজিটাল লত রুখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশন।
রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ড. ববিতা সিং চৌহান শিশুদের বিশেষ করে কন্যা সন্তানদের মধ্যে বাড়তে থাকা এই ডিজিটাল নেশাকে একটি ‘গুরুতর সামাজিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গাজিয়াবাদের ওই তিন বোন মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত ছিল। বাবা তাদের এই অভ্যাসের বিরোধিতা করায় তারা চরম পথ বেছে নেয়। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে (DM) কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এখন থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলগুলিতে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্ট বা হোমওয়ার্ক পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ড. চৌহান তাঁর পত্রে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং গোটা সমাজ ও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, “মোবাইলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে। স্কুলগুলির ডিজিটাল স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই শিশুরা দীর্ঘ সময় ফোনের সামনে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা পরবর্তীকালে নেশায় পরিণত হচ্ছে।” কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে স্কুলগুলি এখন থেকে পুরনো ধাঁচে ডায়েরি বা খাতায় কাজ দিতে বাধ্য হবে, যাতে শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে তাদের স্বাভাবিক শৈশবে ফিরিয়ে আনা যায়। প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক অভিভাবকই।