হাসপাতালে পড়ে স্ত্রী-পুত্রের নিথর দেহ, কমিশনের ‘চাপে’ চোখের জল মুছে শুনানিতে হাজির শিক্ষক!

একদিকে হাসপাতালে পড়ে আছে স্ত্রী ও ৯ মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানের নিথর দেহ, আর অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ। শোকের পাহাড় বুকে চেপেই ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় থাকা পরিবারকে ফেলে রেখে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) শুনানিতে হাজিরা দিতে ছুটলেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। মালদার সুজাপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে তীব্র ক্ষোভ।

মৃতদের নাম হালিমা খাতুন (২৮) ও ৯ মাসের আরিফ হাসান। সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক মহম্মদ ইয়াসিন আনসারি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই শুনানির ডাক পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সপরিবারে টোটো করে গাজোলের দিকে যাওয়ার পথে সুস্থানি মোড়ে একটি লরি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হালিমার, আর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশু আরিফ।

অত্যন্ত করুণ বিষয় হলো, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও ইয়াসিনকে গাজোল ব্লকে শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়। মৃতার পরিবারে অভিযোগ, ইয়াসিনের বাবার নামের বানান ভুলের কারণে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, এই যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চাপে আর কত প্রাণ যাবে? রাজ্য জুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক দল সরব হলেও, ইয়াসিনের এই ব্যক্তিগত অপূরণীয় ক্ষতি যেন প্রশাসনের সংবেদনশীলতাকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।