নকশালদের ল্যান্ডমাইন নয়, এখন প্রাণ কাড়ছে মরণফাঁদ রাস্তা! ৫৫ কিমি দীর্ঘ পাঙ্কি-বালুমঠ সড়কে কেন মানুষের রক্ত ঝরছে?

ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলাকে লাতেহার ও চাত্রার সাথে সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঙ্কি-বালুমঠ সড়কটি এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই রাস্তাটি বর্তমানে সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ। বড় বড় গর্ত আর সেতুর বেহাল দশার কারণে এই রুটে যাতায়াত করা মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, গত মাত্র দুই মাসেই এই সড়কে অন্তত ২৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
নকশাল করিডোরে দ্বিগুণ বিপদ: ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ঘন জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা তাল এবং করিমাতি উপত্যকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। একসময় এই অঞ্চলটি নকশালপন্থীদের করিডোর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং বহু ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের সাক্ষী ছিল। ২০১৮ সালের পর নকশাল আতঙ্ক কমলেও এখন রাস্তার খানাখন্দ আর সেতুর মাটির ক্ষয় যাত্রীদের জন্য নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, রাতে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানে নিশ্চিত বিপদে পড়া। যানবাহন বিকল হয়ে গেলে গভীর জঙ্গলে কোনও সাহায্য পাওয়ার সুযোগও থাকে না।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা: পাঙ্কির বিধায়ক ডঃ শশী ভূষণ মেহতা এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় উত্থাপন করেছেন। তিনি সরকারের কাছে অবিলম্বে রাস্তাটি নতুন করে তৈরির দাবি জানিয়েছেন। বিধায়কের মতে, এই সড়কটি হাজারিবাগ, চাত্রা, গিরিডিহ ও ধানবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরকে বিহারের সাথে যুক্ত করে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের চরম অবহেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় প্রধান পঞ্চম প্রসাদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “প্রতি সপ্তাহে মৃত্যু হচ্ছে, আর সরকার কেবল সমবেদনা জানাচ্ছে। কাজ না হলে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হবে না।”