শকুনের চিৎকার আর গাধার ডাক! জন্মের পরেই কেন কেঁপে উঠেছিল হস্তিনাপুর? দুর্যোধনকে কেন বনে ফেলে দিতে বলেছিলেন জ্যোতিষীরা?

মহাভারতের কাহিনীতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বীজ বপন হয়েছিল কৌরবদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দুর্যোধনের জন্মের সময়ই। মহর্ষি ব্যাসদেবের আশীর্বাদে গান্ধারী একশো পুত্রের জননী হলেও, দুর্যোধনের জন্ম ছিল এক অতিলৌকিক এবং অশুভ সংকেতে ঘেরা। প্রাচীন শাস্ত্র মতে, দুর্যোধনের আগমনের মুহূর্তে হস্তিনাপুরে এমন সব অলুক্ষুণে ঘটনা ঘটেছিল, যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন স্বয়ং ভীষ্ম, বিদুর এবং রাজজ্যোতিষীরা।

অশুভ সংকেত ও প্রকৃতির তাণ্ডব: পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্যোধনের জন্মের সাথে সাথেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। দিনের বেলাতেও অমাবস্যার মতো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। বনের পশু-পাখিরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। শকুনের চিৎকার, শেয়ালের হাড়হিম করা ডাক এবং গাধাদের আর্তনাদে হস্তিনাপুরের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এমনকি জ্যোতিষীরা গণনা করে দেখেন যে, এই শিশুটি হবে সমগ্র বংশের ধ্বংসের কারণ। তারা মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রকে স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন— “কুলের রক্ষার্থে এই অশুভ সন্তানকে বনে বিসর্জন দিন।”

মাংসপিণ্ড থেকে শতপুত্রের জন্মরহস্য: মহাভারত অনুসারে, গান্ধারী দুই বছর গর্ভবতী থাকার পর কোনও সন্তান প্রসব না হওয়ায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরই মাঝে কুন্তীর গর্ভে যুধিষ্ঠিরের জন্ম হলে গান্ধারী ধৈর্য হারিয়ে নিজের গর্ভপাত করেন। এর ফলে তার গর্ভ থেকে একটি কঠিন মাংসপিণ্ড নির্গত হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে মহর্ষি ব্যাসদেব আবির্ভূত হন এবং সেই মাংসপিণ্ডকে একশো একটি ঘি-ভর্তি পাত্রে রাখার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই প্রথম পাত্র থেকেই ভূমিষ্ঠ হন দুর্যোধন।

ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রস্নেহ ও বিনাশের সূচনা: পণ্ডিতরা সাবধান করেছিলেন যে, দুর্যোধনের জন্মের সময় যে নক্ষত্র সংযোগ ছিল, তা কেবল যুদ্ধ এবং রক্তপাতকেই ইঙ্গিত করে। কিন্তু অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্র পুত্রস্নেহে এতটাই অন্ধ ছিলেন যে, জ্যোতিষীদের সতর্কবার্তা এবং ভীষ্ম-বিদুরের পরামর্শ উপেক্ষা করেন। তিনি দুর্যোধনকে ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। এক মাসের মধ্যে জন্ম নেয় ধৃতরাষ্ট্রের বাকি ৯৯ পুত্র এবং একমাত্র কন্যা দুশলা। এই অন্ধ পুত্রস্নেহই শেষ পর্যন্ত হস্তিনাপুরের বিনাশ এবং কুরুক্ষেত্রের মহারণের পথ প্রশস্ত করেছিল।