বন্দুক ছেড়ে হাতে উঠল স্টিয়ারিং! বস্তারের ‘কৌশলগড়’-এ বদলে যাচ্ছে প্রাক্তন মাওবাদীদের জীবন, দেখুন অবিশ্বাস্য রূপান্তর

ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে এক নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে। যে হাতগুলো একসময় বন্দুক আর বারুদের গন্ধে অভ্যস্ত ছিল, আজ সেই হাতগুলোই সেলাই মেশিন চালাচ্ছে, গাড়ির স্টিয়ারিং ধরছে কিংবা কাঠের সূক্ষ্ম কারুকার্য করছে। ছত্তিশগড় সরকারের বিশেষ নকশাল পুনর্বাসন নীতির আওতায় বস্তারের চৌগেল (মুল্লা) ক্যাম্প এখন আর কেবল একটি বিএসএফ ক্যাম্প নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি ‘কৌশলগড়’ বা দক্ষতা বৃদ্ধির কেন্দ্র। এখানে ৪০ জন আত্মসমর্পিত মাওবাদীকে আধুনিক জীবনের উপযোগী বিভিন্ন পেশার প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে পুরোদমে।

হিংসা ছেড়ে স্বনির্ভরতার পাঠ: সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রাক্তন মাওবাদীদের কেবল আত্মসমর্পণে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা। চৌগেল ক্যাম্পে বর্তমানে ড্রাইভিং, দর্জি, কাষ্ঠশিল্প এবং ইলেকট্রিশিয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০ জন করে দুটি ব্যাচে ভাগ করে এই প্রশিক্ষণ চলছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, যাদের নুন্যতম অক্ষরজ্ঞান নেই, তাদের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগও করে দেওয়া হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী সুকদু পদ্দা বা কাজলের মতো তরুণ-তরুণীরা, যারা একসময় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল, আজ তারা পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।

বদলে যাওয়া জীবনের গল্প: ৪০ বছর বয়সী মনহের তারাম গত দুই সপ্তাহ ধরে ফোর-হুইলার চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “গাড়ি চালানো শেখার স্বপ্ন অনেকদিনের ছিল, আজ তা পূরণ হচ্ছে।” অন্যদিকে, কাজল জানাচ্ছে ছোটবেলা থেকেই তার সেলাই শেখার শখ ছিল, যা এই পুনর্বাসন ক্যাম্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ক্যাম্পের নোডাল অফিসার বিনোদ আহিরওয়ার জানিয়েছেন, আগামীতে মাশরুম চাষ ও বাগান তৈরির মতো আরও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদন: কেবল কর্মসংস্থান নয়, এই শিবিরে থাকা ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিনোদনের জন্য ক্যারাম, সংগীত ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। বস্তার যা একসময় কেবল সংঘর্ষের খবরের শিরোনাম হতো, আজ তা উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠছে।