বিয়েবাড়িতে মদের আসর না বসালেই হাতে নগদ ৫১ হাজার! নেশামুক্তির লক্ষ্যে বাম্পার অফার

বিয়েবাড়ি মানেই এখন গান-বাজনার সঙ্গে মদের আসর বা ককটেল পার্টি। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের এক গ্রাম পঞ্চায়েত এই চেনা ছবি বদলাতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রামে যুবকদের মধ্যে বাড়তে থাকা মদের আসক্তি রুখতে অভিনব পুরস্কার ঘোষণা করেছেন দোইওয়ালা বিধানসভার গাদুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুইটি রাওয়াত। নিয়মটি সহজ— বিয়ে বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে মদের আসর না বসলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে পঞ্চায়েতের তরফে নগদ ৫১ হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
গ্রামপ্রধান সুইটি রাওয়াতের এই উদ্যোগকে সমাজ সংস্কারের বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সুইটি জানান, “যুবকদের মধ্যে মদ্যপানের ইন্ধন জোগাচ্ছে এই সব সামাজিক অনুষ্ঠান। সেই প্রবণতা আটকাতেই আমি এই পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল মিলতে শুরু করেছে। ১ ডিসেম্বর জ্ঞান সিং বিষ্ট নামের এক ব্যক্তি তাঁর মেয়ের বিয়েতে মদের আসর নিষিদ্ধ করেন। তাঁর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে দেরাদুনের জেলাশাসক সাভিন বানসাল খোদ তাঁর হাতে ৫১ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
শুধু জ্ঞান সিং নন, ৫ ফেব্রুয়ারি দেবেন্দ্র সিংও তাঁর মেয়ের বিয়ের ককটেল পার্টি বন্ধ রেখে প্রশাসনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁকে ২১ হাজার টাকার চেক দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। গ্রামবাসীর মতে, এই পদক্ষেপে যেমন স্বাস্থ্যের ক্ষতি আটকাবে, তেমনই সাশ্রয় হবে আয়োজক পরিবারের বিপুল অর্থের। উত্তরাখণ্ডের এই ছোট্ট গ্রামের মডেল এখন গোটা রাজ্যের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলাশাসকও গ্রাম পঞ্চায়েতের এই সাহসী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।