যখন বিশ্বের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম নৌবাহিনী ছিল ‘পেপসি’! রাশিয়ার সাবমেরিন কেন কিনল কোল্ড ড্রিঙ্কস কোম্পানি?

ইতিহাসের পাতায় কতই না অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, কিন্তু একটি ঠান্ডা পানীয় বিক্রির বদলে এক দেশের নৌবাহিনী কিনে নেওয়ার গল্প বোধহয় সবকিছুর ঊর্ধ্বে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ১৯৮৯ সালে মার্কিন কোম্পানি ‘পেপসি’ রাতারাতি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। সৌজন্যে ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।

ভদকা থেকে সাবমেরিন: ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৯ সালে। তৎকালীন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ পেপসির স্বাদে মজে গিয়ে তাঁর দেশে এই পানীয়র দরজা খুলে দেন। কিন্তু সমস্যা ছিল মুদ্রা নিয়ে। সোভিয়েত ‘রুবল’ আন্তর্জাতিক বাজারে অচল ছিল। তাই শুরুতে পেপসির সিরাপের বদলে বিখ্যাত ‘স্টোলিচনায়া ভদকা’ পাঠাত রাশিয়া। কিন্তু আশির দশকের শেষে পেপসির চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে, কেবল ভদকা দিয়ে দাম মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না।

মহাসমুদ্রে পেপসির রাজত্ব: আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাশিয়া তখন এক অভূতপূর্ব প্রস্তাব দেয়। তারা পেপসিকে টাকার বদলে ১৭টি সাবমেরিন, একটি ক্রুজার, একটি ফ্রিগেট এবং একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ দিয়ে দেয়। এর ফলে কারিগরিভাবে পেপসির কাছে সেই সময় ভারত বা অনেক ইউরোপীয় দেশের চেয়েও শক্তিশালী নৌবহর তৈরি হয়েছিল। পেপসির তৎকালীন সিইও ডোনাল্ড কেন্ডাল রসিকতা করে মার্কিন সরকারকে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের চেয়ে দ্রুত সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিরস্ত্র করছি!”

শেষ পরিণতি: অবশ্য পেপসির যুদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তারা দ্রুত সেইসব রণতরী নরওয়ের একটি কোম্পানির কাছে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে তাদের পাওনা টাকা উশুল করে নেয়। বাণিজ্যের খাতিরে কীভাবে ভূ-রাজনীতি আর সামরিক সরঞ্জাম জড়িয়ে যেতে পারে, তার এই অনন্য উদাহরণ আজও হার্ভার্ড বা ওয়ার্টনের মতো বিজনেস স্কুলগুলোতে কেস স্টাডি হিসেবে পড়ানো হয়।