জনগণ রিজেক্ট করেছে, এখন প্রচার চাইছেন?’ প্রশান্ত কিশোরের দলকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের!

নির্বাচনী ময়দানে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার আইনি লড়াইয়েও বড়সড় ধাক্কা খেলেন দুঁদে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর দল ‘জন সুরজ’। গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পিকে-র দল। শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে জন সুরজ-কে তীব্র ভর্ৎসনা করল সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, আর এখন কি আপনারা এই বিচারিক মঞ্চকে স্রেফ প্রচার পাওয়ার জন্য ব্যবহার করছেন?”
আদালতে জন সুরজের আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের সময় তৎকালীন সরকার আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতি পরিবারে মহিলাদের ১০,০০০ টাকা করে বিলি করেছে। তাঁদের দাবি ছিল, প্রায় ২৫-৩৫ লক্ষ মহিলা ভোটারকে এভাবে প্রভাবিত করে ক্ষমতাসীন দল দুর্নীতিমূলক কাজ করেছে। এমনকি প্রশান্ত কিশোর নিজেও অভিযোগ করেছিলেন যে, বিজেপি-জেডিইউ জোট বিপুল টাকা খরচ করে ভোট ‘কিনেছে’। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই যুক্তিতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে পিকে-র দলকে বিহার হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, বিহার নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করলেও একটিতেও খাতা খুলতে পারেনি জন সুরজ। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘রেউড়ি’ বা লোভনীয় প্রতিশ্রুতি রাজ্যগুলোকে দেউলিয়া করে দিতে পারে—এই বিষয়টি আদালত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তবে বিচারপতির কড়া মন্তব্য, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর… কিন্তু এমন কোনো রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে আমরা জনহিতৈষী আবেদনকারীদের কথা শুনতে চাই, যারা নির্বাচনে সবকিছু হারিয়েছে।” এই রায়ের ফলে বিহারের রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের অবস্থান আরও চাপে পড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।