গ্ল্যামারের আড়ালে মাদকের কারবার! শ্রীঘরে দক্ষিণী অভিনেত্রী কৃষ্ণা অঞ্জুম, উদ্ধার নিষিদ্ধ ড্রাগস

রুপোলি পর্দার মোহময়ী জগতের আড়ালে যে অন্ধকারের জাল বিছানো ছিল, তা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে চেন্নাইয়ের বিনোদন জগতে। চেন্নাই পুলিশের বিশেষ শাখা ‘অ্যান্টি-নারকোটিক্স ইনটেলিজেন্স ইউনিট’ (NIU)-এর এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বৃহস্পতিবার হাতেনাতে ধরা পড়লেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী কৃষ্ণা অঞ্জুম। কেবল অভিনেত্রীই নন, তাঁর অফিস থেকে এই আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ৮ জনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই অভিনেত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যখন কৃষ্ণা অঞ্জুমের অফিসে হানা দেওয়া হয়, তখন সেখানে যা উদ্ধার হয় তা দেখে কার্যত থমকে যান দুঁদে অফিসাররা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ৬ গ্রাম মারাত্মক মেথামফটেমিন, ৭ গ্রাম ওজি গাঁজা, ১৫ গ্রাম সাধারণ গাঁজা এবং এলএসডি (LSD) স্ট্যাম্প। এছাড়াও ৯টি দামি স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ফোনগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শহরের প্রভাবশালী খদ্দের এবং মাদক সরবরাহকারীদের গোপন নেটওয়ার্ক।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই সাফল্যের সূত্রপাত হয়েছিল নেসাপাক্কাম এলাকা থেকে ভিগনেশ্বরন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর। তাকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে ভেঙ্কটেশ কুমারের নাম। আর সেই ভেঙ্কটেশকে ট্র্যাক করেই পুলিশ সরাসরি পৌঁছায় অভিনেত্রীর দপ্তরে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন অঞ্জু কৃষ্ণা, ভিন্সি নিবেধা, কার্তিক রাজা এবং যশবন্তের মতো নাম। মনে করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেটটি মূলত উচ্চবিত্ত সমাজ এবং সেলিব্রিটিদের টার্গেট করত। বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বাজেয়াপ্ত ফোনগুলি। এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির আরও কোনো রাঘববোয়াল জড়িয়ে আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত জারি রেখেছে প্রশাসন।