ছোট গাড়িতেও কড়াকড়ি! মোদী সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঘুম উড়ল গাড়ি কোম্পানিদের?

ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে এক বড়সড় পরিবর্তনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন ছোট গাড়ি বা এন্ট্রি-লেভেল কার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো জ্বালানি দক্ষতার বিধিমালায় যে বিশেষ ছাড় বা ভর্তুকি পেয়ে আসছিল, তা এবার পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মতো দেশীয় সংস্থাগুলি খুশি হলেও, সামগ্রিকভাবে অটোমোবাইল বাজারে এর প্রভাব পড়বে সুদূরপ্রসারী।
কেন এই সিদ্ধান্ত? সূত্রের খবর, জ্বালানি দক্ষতা বিধিমালায় ছোট গাড়ির জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তার তীব্র বিরোধিতা করে টাটা ও মাহিন্দ্রার মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো। তাদের দাবি ছিল, এই নিয়ম কার্যকর হলে কেবল একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি (যাদের পোর্টফোলিওতে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেশি) অসম সুবিধা পাবে। সেই আপত্তির ভিত্তিতেই জ্বালানি মন্ত্রক খসড়া সংশোধন করে সবার জন্য সমান নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৭ থেকে কড়া নিয়ম: নতুন নিয়মাবলী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরের জন্য যানবাহনের কার্বন নির্গমনের মাত্রা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা। এখন থেকে প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের উৎপাদিত গাড়ির ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বা জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা উন্নত করতেই হবে। কোনো কোম্পানি নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে প্রতি গাড়ির জন্য প্রায় $550 (ভারতীয় মুদ্রায় যা কয়েক হাজার টাকা) জরিমানা গুনতে হবে।
ইভি ও হাইব্রিড গাড়িতে জোর: সরকারের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে ভারতের রাস্তায় ইভি (EV), হাইব্রিড এবং ফ্লেক্স-ফুয়েল টেকনোলজিই প্রাধান্য পাবে। ২০৩২ সালের মধ্যে গড় কার্বন নির্গমন ১০০ গ্রাম/কিমি-র নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদি মোট বিক্রির অন্তত ১১ শতাংশ ইলেকট্রিক গাড়ি হয়, তবে এই নির্গমন ৭৬ গ্রামে নামিয়ে আনা সম্ভব। এর ফলে গ্রাহকরা যেমন আরও বেশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী গাড়ি পাবেন, তেমনই পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।