পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে লাগবে না বাবা-মায়ের অনুমতি! ১৮ পেরোলেই মিলবে পূর্ণ স্বাধীনতা: ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

১৮ বছর বয়স পার করার পর দুই যুবক বা যুবতীর তাঁদের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এই অধিকার তাঁদের সংবিধান দিয়েছে। এর জন্য সমাজ বা পিতামাতার অনুমোদনের কোনও প্রয়োজন নেই। একটি মামলার শুনানিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিয়ের অধিকার মানুষের স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রেই অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 21) একটি অপরিহার্য অংশ। বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রতিটি ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সহজাত অধিকারকে কেউ খর্ব করতে পারে না।

ঘটনাটি মূলত এক নবদম্পতিকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হিন্দু রীতি মেনে আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন ওই যুগল। বিয়ের পর তাঁরা নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রেশনও করেন। কিন্তু গোলমাল বাঁধে মেয়ের পরিবারের দিক থেকে। দম্পতির অভিযোগ ছিল, মেয়ের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেননি এবং ক্রমাগত তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। নিজেদের নিরাপত্তা চেয়েই ওই দম্পতি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মামলাটির পর্যবেক্ষণে আদালত অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিচারপতি বলেন, “যেহেতু আবেদনকারী দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় একে অপরের হাত ধরে বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই এখন থেকে সমাজ, রাষ্ট্রযন্ত্র এমনকি তাঁদের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুরাও তাঁদের সিদ্ধান্তে কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।” আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দম্পতিকে অবিলম্বে পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। এমনকি তাঁরা যদি নিজেদের বাসস্থান পরিবর্তন করেন, তবে নতুন এলাকার পুলিশকেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালতের এই রায় পুনরায় প্রমাণ করল যে, ভারতীয় আইন প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্বাধীনতার ঊর্ধ্বে কোনও সামাজিক বা পারিবারিক চাপকে স্থান দেয় না।