৪৩ দিন ধরে চলবে রঙের খেলা! ব্রজের লঠঠমার থেকে ফুলের হোলি—জেনে নিন ২০২৬-এর সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার!

ভারতের সংস্কৃতিতে হোলি মানেই এক বিশেষ উন্মাদনা। তবে ব্রজধাম অর্থাৎ মথুরা, বৃন্দাবন, বরসানা ও নন্দগাঁওয়ের হোলি সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ সালে ব্রজের এই ঐতিহ্যবাহী হোলি উৎসব নিয়ে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ রব শুরু হয়ে গেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্রজভূমিতে হোলি কেবল একদিনের উৎসব নয়, এটি বসন্ত পঞ্চমী থেকে শুরু করে টানা ৪০ দিন ধরে চলা এক মহোৎসব।
কেন ৪০ দিন ধরে পালিত হয় ব্রজের হোলি? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে অর্থাৎ বসন্ত পঞ্চমীর দিন প্রথমবার রাধারানীর সঙ্গে হোলি খেলেছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে পাথেয় করে আজও ব্রজবাসীরা বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকে আবির খেলার সূচনা করেন। এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে রঙ পঞ্চমীর দিন।
ব্রজ হোলি ২০২৬-এর সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার: ব্রজের প্রতিটি জায়গার হোলির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনি যদি এই বছর ব্রজের রঙে নিজেকে রাঙাতে চান, তবে নিচের দিনক্ষণগুলো অবশ্যই নোট করে রাখুন:
-
লাড্ডু হোলি (বরসানা): মূল হোলির কয়েকদিন আগে বরসানার শ্রীজি মন্দিরে পালিত হয় লাড্ডু হোলি। এখানে রঙের বদলে লাড্ডু ছুঁড়ে আনন্দ উৎসব করা হয়।
-
লঠঠমার হোলি (বরসানা ও নন্দগাঁও): এটি ব্রজের সবচেয়ে জনপ্রিয় রীতি। যেখানে মহিলারা লাঠি দিয়ে পুরুষদের প্রহার করেন এবং পুরুষরা ঢাল দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
-
ফুলের হোলি (বৃন্দাবন): বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারী মন্দিরে আবিরের বদলে মন মাতানো সুগন্ধি ফুলের পাপড়ি দিয়ে হোলি খেলা হয়।
-
ছড়ি মার হোলি (গোকুল): বাল গোপালের স্মৃতি বিজড়িত গোকুলে ছোট ছোট লাঠি বা ছড়ি দিয়ে এই বিশেষ হোলি খেলা হয়।
ব্রজের এই ৪০ দিনের উৎসবে শুধু রঙের খেলা নয়, বরং ভক্তি, পরম্পরা এবং রাধা-কৃষ্ণের শাশ্বত প্রেমের এক জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। গোকুল থেকে মথুরা—প্রতিটি অলিতে গলিতে শোনা যায় ‘রাধে রাধে’ ধ্বনি। পর্যটকদের ভিড় সামলাতে প্রশাসনও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তাই আপনিও যদি এই আধ্যাত্মিক এবং বর্ণিল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চান, তবে এখনই পরিকল্পনা সেরে ফেলুন।