জয়নগরে তুলকালাম! বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পোস্টার, নেপথ্যে কি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল কি তবে চওড়া হচ্ছে? শুক্রবার সকালে জয়নগর স্টেশন চত্বর, স্থানীয় বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে পড়া পোস্টার ঘিরে এই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে। পোস্টারে স্পষ্ট লেখা— “বিধায়কের পরিবর্তন চাই”, আর তার সৌজন্যে লেখা রয়েছে “তৃণমূল কর্মীরা”।
শুক্রবার সকালে দোকানপাট খোলার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে এই পোস্টারগুলি। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর; বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তিনি টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের সদস্য পদ পাইয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, যোগ্যতার বদলে অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিলি করার যে তত্ত্ব বিরোধীরা এতদিন দিয়ে আসছিল, এখন তা পোস্টার আকারে খোদ শাসকের গড়ে আছড়ে পড়ল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এই পোস্টার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এলাকায় উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানুষ আমার সঙ্গে আছে।”
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভের পাহাড় জমেছে। টাকার বিনিময়ে পদ পাইয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি তৃণমূলের ডিএনএ-তে মিশে আছে। আমরা শুধু বিধায়ক নয়, গোটা জয়নগর থেকেই তৃণমূলের বিদায় চাই।” একই সুর শোনা গেছে সিপিআইএম নেতা অপূর্ব প্রামাণিকের গলায়। তাঁর মতে, যারা রাজনীতিকে ব্যবসা মনে করে টাকা বিনিয়োগ করে পদে বসেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই কর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ।
পাল্টা রক্ষণে নেমে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব বিষয়টিকে বিরোধীদের সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে। জেলা পরিষদের সদস্য খান জিয়ারুল হক স্পষ্ট জানান, দলের কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করতে পারেন না। প্রশাসনকে ঘটনার তদন্ত করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তবে কারণ যাই হোক, নির্বাচনের আগে জয়নগরে ‘পোস্টার যুদ্ধ’ যে তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।