বন্যার আবর্জনা খুঁড়ে বেরল ইতিহাস! বান্দ্রার ‘লুপ্ত’ ইহুদি সমাধিক্ষেত্র পেল নতুন জীবন

মুম্বইয়ের বান্দ্রার কাদেশ্বরী মার্গের ঘিঞ্জি গলি। সেখানেই বহু দশক ধরে আগাছা আর আবর্জনার তলায় চাপা পড়ে গিয়েছিল শহরের এক টুকরো ইতিহাস। দীর্ঘ অবহেলার পর অবশেষে সংস্কারের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেল বান্দ্রা ইহুদি সমাধিক্ষেত্র (Bandra Jewish Cemetery)। এই সংস্কার কেবল এক খণ্ড জমির পুনরুদ্ধার নয়, বরং মুম্বইয়ের ক্রমশ কমে আসা ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে তাদের শিকড়ে ফেরার এক আবেগময় সফর।

১৯৪২ সালে তৎকালীন বোম্বে মেয়র ডঃ ই মোজেসের সহায়তায় এই কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এখানে মাত্র চারটি শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। অযত্নে কবরের ওপর জমেছিল স্তূপীকৃত জঞ্জাল, বাসা বেঁধেছিল সাপ আর ইঁদুর। ২০২২ সালের শেষের দিকে দুই ভাই, আব্রাহাম ইয়েহুদা এবং ডেভিড অ্যাশটন এই ধ্বংসপ্রায় স্থানটিকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন। প্রায় ১১.৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পরিশ্রমে আট ট্রাক ভর্তি আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। আজ সেখানে ফুটেছে ফুলের বাগান, দেওয়ালে লতানো গাছ আর সিসিটিভি ক্যামেরায় সুরক্ষিত এক শান্ত পরিবেশ।

এই সংস্কারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো অনেক পরিবারের তাদের প্রিয়জনের কবরের সঙ্গে পুনর্মিলন। ৮০ বছর বয়সী তৃপ্তা সুরেশ বহু দশক পর তাঁর মায়ের সমাধি খুঁজে পেয়েছেন, যা ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে গিয়েছিল। আবার আভিভা জুডাহর মতো বাসিন্দারা তাঁদের বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছেন এখানেই তাঁকে সমাহিত করে। বর্তমানে মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলে প্রায় ৪,০০০ ইহুদি পরিবার অবশিষ্ট রয়েছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে টিকিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে বান্দ্রার এই ছোট সমাধিক্ষেত্রটি এখন এক বড় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।