‘বসে থাকা মানেই কি তিলে তিলে মৃত্যু?’ ধূমপানের মতোই ভয়ঙ্কর আপনার অলস জীবনযাত্রা!

আজকের কর্পোরেট সংস্কৃতিতে ‘বসা’ বা ‘সিটিং’ (Sitting) শব্দটিকে চিকিৎসকরা ‘নতুন ধূমপান’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এটি কেবল কোনো মুখরোচক শিরোনাম নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের এক গভীর স্বাস্থ্য উদ্বেগ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে আমাদের শরীর এক ধরনের ‘মেটাবলিক স্ট্যান্ডবাই’ মোডে চলে যায়, যা নিঃশব্দে কোশীয় কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রুবি হল ক্লিনিকের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডঃ ভূষণ জাদে এই বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন।
ডঃ জাদের মতে, দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায় (Hyperinsulinemia), যা অস্বাভাবিক কোশের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। এছাড়া, পেশি সচল না থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে স্তন ও জরায়ুর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, নড়াচড়া কম হলে শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা কার্সিনোজেন ঠিকমতো বের হতে পারে না।
তবে এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ম্যারাথন দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই জীবন বদলে দিতে পারে:
৩০ মিনিটের নিয়ম: প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর অন্তত ২ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ান বা হাঁটুন। এটি ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়ান: মিটিং বা ফোনে কথা বলার সময় বসে না থেকে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করুন।
খাবার পর হাঁটা: দুপুরের খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে জিমের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
অ্যাক্টিভ কমিউটিং: লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন বা গন্তব্যের একটু আগে নেমে হেঁটে যান। দিনে বাড়তি ২,০০০ কদম আপনার কোলন ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
মনে রাখবেন, সারাদিন বসে থেকে শেষে এক ঘণ্টা জিমে গিয়ে ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট নড়াচড়া বা ‘NEAT’ (Non-Exercise Activity Thermogenesis) আপনার শরীরকে গতিশীল রাখে এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।