মাঝরাস্তায় বাইক থামিয়ে পুলিশকে ছিঁড়ে খেল বাঘ! মায়োদিয়ায় হাড়হিম করা কাণ্ড

অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার দিবাং উপত্যকায় ঘটে গেল এক শিউরে ওঠা ঘটনা। গত সোমবার রাতে ডিউটি সেরে ফেরার পথে বাঘের অতর্কিত আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক পুলিশ কনস্টেবলের। মৃত পুলিশ কর্মীর নাম চিকসেং মানপুং। তিনি অরুণাচল প্রদেশ পুলিশের রেডিও অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সূত্রের খবর, চিকসেং যখন অনিমি থেকে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন, তখন মায়োদিয়া এলাকায় একটি বাঘ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাহাড়ি ও জঙ্গল ঘেরা এই রাজ্যে বাঘের হাতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বিরল, তাই এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও বনবিভাগের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছান। মায়োদিয়ার বরফঘেরা সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও, নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে ওই রুটে দুই চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিতো রুমি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় একটি বাঘিনী ও তার তিনটি শাবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। তবে চাঞ্চল্যকর মোড় আসে ঘটনার দুদিন পর। যে এলাকায় পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল, তার কাছেই একটি বাঘিনীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাঘিনীটির শরীরে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। এটিই কি সেই বাঘিনী যা পুলিশ কর্মীকে আক্রমণ করেছিল? নাকি প্রতিহিংসার জেরে কেউ সেটিকে গুলি করে মেরেছে? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পরিবেশবাদীরা এই ঘটনায় বন দপ্তরের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তাঁদের মতে, বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার কারণেই বাঘ লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে হয়তো পুলিশ কর্মী এবং বাঘিনী—কাউকেই অকালে প্রাণ হারাত হত না। উপ-মুখ্যমন্ত্রী চৌনা মেইন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃত পুলিশ কর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বর্তমানে মেহাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন ওই রাস্তায় চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে