ChatGPT-কে টক্কর দিতে আসছে ভারতের নিজস্ব ‘BharatGen’! ২২টি ভাষায় কথা বলবে এই দিশি এআই

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর দুনিয়ায় এবার ভারতের জয়জয়কার। মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল বা ওপেন এআই-এর একাধিপত্য কমাতে ময়দানে নামছে ভারতের নিজস্ব মাল্টিমোডাল এআই সিস্টেম ‘ভারতজেন’ (BharatGen)। আইআইটি বোম্বে-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এই এআই প্রযুক্তি এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, এই মাসের শেষেই ভারতজেন ভারতের ২২টি সরকারি ভাষায় লিখতে সক্ষম হবে।

‘ভারতজেন’ কেবল একটি চ্যাটবট নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ এআই ইকোসিস্টেম। এতে থাকছে স্পিচ-টু-টেক্সট (কথা থেকে লেখা), টেক্সট-টু-স্পিচ (লেখা থেকে কথা) এবং ভারতের প্রথম ডকুমেন্ট-ভিশন মডেল ‘পত্রম’। এটি ছবি চিনতে এবং জটিল নথি বিশ্লেষণ করতেও ওস্তাদ। প্রায় ৩০০ কোটি প্যারামিটার সম্বলিত এই টেক্সট মডেলটিকে ট্রেইন করা হয়েছে নিখুঁত ফলাফলের জন্য। এই প্রকল্পের জন্য ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যে ১০৫৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করেছে।

সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে? ভারতজেন কেবল বড় শহরের শিক্ষিত মানুষের জন্য নয়, এটি পৌঁছে যাবে গ্রামের কৃষকের কাছেও। ‘কৃষি সাথী’ ফিচারের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় চাষবাসের পরামর্শ পাবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে ‘ই-বিক্রয় এআই’ এবং সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন আইনি বা সরকারি নথি সহজ করে বুঝিয়ে দেবে ‘ডকবোধ’।

চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি মূলত ইংরেজি নির্ভর হলেও, ভারতজেন তৈরি করা হয়েছে ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যকে মাথায় রেখে। এটি শিক্ষা, প্রশাসন এবং ডিজিটাল পরিষেবাকে আমজনতার হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় ভারতকে ‘আত্মনির্ভর’ করার পথে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে।