মাঝ আকাশে মহাবিপদ! ১ বছরে ৩৭৭টি ভারতীয় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ভারতীয় আকাশসীমায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে এক বড়সড় তথ্য প্রকাশ্যে এলো খোদ দেশের সংসদে। গত এক বছরে দেশের বিমান পরিষেবা কতটা নিরাপদ ছিল, সেই প্রশ্নে লোকসভায় দাঁড়িয়ে রীতিমতো উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান পেশ করলেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ভারতীয় এয়ারলাইন্সের মোট ৩৭৭টি বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ বা টেকনিক্যাল ত্রুটি ধরা পড়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই বিমানগুলি বিভিন্ন নিয়মিত এয়ারলাইন্সের অন্তর্ভুক্ত। মাঝ আকাশে বা উড্ডয়নের আগে বারবার এই ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। বেসামরিক বিমান পরিবহন অধিদপ্তর (DGCA) তাদের নজরদারি এবং টেকনিক্যাল টিমের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালে যেখানে ডিজিসিএ-তে টেকনিক্যাল পদের সংখ্যা ছিল ৬৩৭, বর্তমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০৬৩ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিমান চলাচলের ওপর নজর রাখতে কয়েকশ নতুন কর্মী নিয়োগ করছে কেন্দ্র।
যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। নজরদারি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ‘ই-সিএ’ (eCGA) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে বিমানের প্রতিটি পরিদর্শন রিপোর্ট বা কোনো খামতি থাকলে তা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে। মন্ত্রী আরও জানান, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বিমান সংস্থাগুলির অপারেশন এবং মেইনটেন্যান্স চেক করার জন্য ৮৭৪টি স্পট চেক এবং ৫৫০টি নাইট সারভেইল্যান্স বা নৈশকালীন পরিদর্শন চালানো হয়েছে। বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ২০২৫ সালের শীতকালীন সূচি অনুযায়ী বর্তমানে সিংরাউলি বিমানবন্দর থেকে কোনো নিয়মিত ফ্লাইটের প্রস্তাব নেই। বিমানের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবে, যাতে বিপদমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।