মৃত্যুফাঁদ জনাকপুরী! খোলা গর্তে পড়ে প্রাণ হারালেন যুবক, দিল্লি জল বোর্ডের চরম গাফিলতিতে তুঙ্গে ক্ষোভ

দিল্লির জনাকপুরী এলাকায় রাস্তার মাঝখানে থাকা এক ভয়ংকর খোলা গর্ত কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। মৃত যুবকের নাম কামাল, যিনি কৈলাশপুরীর বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে রোহিনীতে নিজের অফিস থেকে কাজ সেরে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও মর্মান্তিক পরিণতি: পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফেরার পথে ফোনে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন কামাল। কিন্তু অনেক রাত হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা হন্যে হয়ে সারা রাত তাঁকে খুঁজলেও কোনো হদিস পাননি। অবশেষে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ পুলিশের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে দেখা যায়, রাস্তার ধারের একটি গভীর গর্তের ভেতর নিজের বাইকসহ নিথর হয়ে পড়ে আছেন কামাল।
বিভাগীয় গাফিলতির অভিযোগ: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই এলাকায় দিল্লি জল বোর্ডের (Delhi Jal Board) পক্ষ থেকে মেরামতির কাজ চলছিল এবং সেই কারণেই রাস্তার মাঝে একটি বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে কোনো বিপদসংকেত বা সঠিক বেরিকেড ছিল না। বিশেষ উল্লেখ্য যে, দুর্ঘটনাস্থলটি দিল্লির ক্যাবিনেট মন্ত্রী আশীষ সুদের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কামালের স্বজনরা। তাঁরা দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নয়ডার ছায়া এবার দিল্লিতে: গত মাসেই নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার একইভাবে মৃত্যু হয়েছিল। ঘন কুয়াশার মধ্যে তাঁর গাড়িটি একটি অচিহ্নিত ও জলমগ্ন গর্তে পড়ে যায়। সেই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকার নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও লোকেশ এম-কে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল এবং সিট (SIT) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। এবার দিল্লির জনাকপুরীর এই ঘটনা আবারও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। দিল্লি পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।