দিল্লিতে মেয়ে নিখোঁজের আতঙ্ক কি সাজানো নাটক? দিল্লি পুলিশের বিস্ফোরক তথ্যে তোলপাড় দেশ

দিল্লিতে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু শুক্রবার দিল্লি পুলিশের এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে পুরো বিষয়টি এক ভিন্ন মোড় নিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ সংবাদ নিয়ে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত ‘পেইড প্রমোশন’ বা অর্থের বিনিময়ে প্রচার। নাগরিকদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
পেইড প্রমোশনের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ দিল্লি পুলিশ সরাসরি জানিয়েছে, “কিছু তথ্য অনুসরণ করার পর আমরা জানতে পেরেছি যে দিল্লিতে মেয়ে নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে প্রচার করা হচ্ছে। আর্থিক লাভের জন্য নাগরিকদের মধ্যে এই ধরণের আতঙ্ক ছড়ানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” একাধিক প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এই বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়, যা নিয়ে পুলিশের নজরদারি শুরু হয়েছিল।
পরিসংখ্যান কী বলছে? দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ১,৭৭৭টি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে দিল্লিতে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট জমা পড়ে। গত এক দশকে এই সংখ্যাটি বার্ষিক ২৩,০০০ থেকে ২৪,০০০-এর মধ্যেই স্থিতিশীল রয়েছে, যা ২০১৬ সাল থেকে প্রায় একই রকম। অর্থাৎ, গত ১৫ দিনে ৮০৭ জন উধাও হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তাকে ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ বলতে নারাজ পুলিশ।
সাফল্য ও উদ্বেগের জায়গা: দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১,৮০,৮০৫ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার সাফল্যের হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। ‘অপারেশন মিলাপ’ এবং এআই-ভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন টুলের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই এই উদ্ধারকাজ সম্ভব হচ্ছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। পুলিশের তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, নিখোঁজ মহিলাদের খুঁজে না পাওয়ার সংখ্যা ২০১৬ সালে যেখানে ১,৬০০ ছিল, তা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৫৭৬-এ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ২৪,৫০৮টি নিখোঁজ মামলার মধ্যে ৯,০৮৭টি মামলার সমাধান এখনও সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি নিখোঁজ মামলাই উদ্বেগের, তবে সেটাকে গুজব বা আতঙ্কের রূপ দেওয়া অপরাধ।