৬ গুণ আয়বৃদ্ধি বনাম কেন্দ্রের বঞ্চনা! বাজেটের ‘ম্যাজিক নম্বর’ নিয়ে ময়দানে অমিত মিত্র

বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পর রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের ‘ল্যাবরেটরি রিপোর্ট’ নিয়ে জনসমক্ষে এলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তথ্য ও পরিসংখ্যানের সাহায্যে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে কেন্দ্রের ‘আর্থিক বঞ্চনা’ এবং বাম আমলের বিপুল ঋণের বোঝা সামলেও বাংলা উন্নয়নের নয়া রেকর্ড গড়ছে। অমিত মিত্রের দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্যের নিজস্ব আয় বেড়েছে অবিশ্বাস্য ৬ গুণ।
বাজেটের জটিল পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১০-১১ সালে রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ২১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৬০০ কোটিতে। শুধু আয় নয়, সম্পদ সৃষ্টির (Capital Expenditure) ক্ষেত্রেও রাজ্য অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি জানান, পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ১৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা বিরোধীদের ‘অনুৎপাদক ব্যয়’-এর অভিযোগকে খণ্ডন করে।
রাজ্যের ঋণের বোঝা নিয়ে অমিত মিত্র কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “বাম আমলের ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে আমাদের প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা আসল ও সুদ বাবদ শোধ করতে হয়েছে। এর ওপর কেন্দ্র প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। এত চাপ সত্ত্বেও আমরা রাজকোষ ঘাটতি ২.৯১ শতাংশে নামিয়ে এনে আর্থিক শৃঙ্খলার নজির গড়েছি।” সামাজিক সুরক্ষা এবং কৃষি খাতেও বরাদ্দের বিপুল বৃদ্ধির খতিয়ান দেন তিনি। কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে ব্যয় ১৮ গুণ বেড়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। অমিত মিত্রের সাফ কথা, এত প্রতিকূলতার মাঝেও বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশ কমানো এবং রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা মা-মাটি-মানুষের সরকারের এক বিরাট সাফল্য।