‘বাংলায় চলছে নির্মমতার সরকার!’ রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে মমতা শিবিরকে ধুয়ে দিলেন মোদি

রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চকক্ষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের জবাবি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী সাফ বলেন, “বাংলায় এখন নির্মমতার সরকার চলছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, অথচ অনুপ্রবেশকারীদের লাল কার্পেট বিছিয়ে স্বাগত জানানো হচ্ছে।”
বক্তব্যের শুরুতেই মোদি ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারত এখন বিশ্বের কাছে আশার আলো। কংগ্রেসের আমলে যে অর্থনীতি ১১ নম্বরে নেমে গিয়েছিল, তা আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে।” তবে উন্নয়নের আলোচনার মাঝেই বাংলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশ করে মোদি বলেন, “আপনারা দিল্লি এসে বড় বড় কথা বলেন, উপদেশ দেন। কিন্তু নিজেদের রাজ্যের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? বাংলার পরিস্থিতি আজ তলানিতে। গরিব মানুষের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, নারীদের সম্মান ভূলুণ্ঠিত। উন্নত দেশগুলো যখন অনুপ্রবেশকারীদের রুখছে, তখন আপনারা ভোটব্যাঙ্কের জন্য তাঁদের সাহায্য করছেন। বাংলার যুবসমাজ আপনাদের ক্ষমা করবে না।”
প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছেন। সংবিধান নিয়ে বিরোধীদের হইহট্টগোল প্রসঙ্গে তাঁর কড়া মন্তব্য, “যাঁরা জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তাঁদের মুখে সংবিধানের কথা মানায় না।” মোদি জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’-এ সওয়ার হয়েছে এবং দেশ এখন বিশ্বমঞ্চে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি—সব ক্ষেত্রেই ভারত এখন স্বনির্ভর। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁর শেষ বার্তা ছিল স্পষ্ট— “আমাদের উপদেশ দেওয়ার আগে নিজের রাজ্যের পরিস্থিতি বদলান।”