ভোটার তালিকায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ রক্ষায় মরিয়া তৃণমূল! সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালকে তোপ মোদীর

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে সংঘাত এবার সংসদ থেকে সুপ্রিম কোর্ট— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে দৌড়াচ্ছে কেবল ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ভোটার তালিকায় টিকিয়ে রাখতে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এই অবৈধ ভোটাররা বাংলার আদিবাসী ও যুবকদের রুজি-রোজগার কেড়ে নিচ্ছে, আর রাজ্য সরকার তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।

এর ঠিক একদিন আগেই, বুধবার দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাধারণ নাগরিক ও আইনজীবী হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলা, পরিযায়ী শ্রমিক এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। মমতা আদালতে প্রশ্ন তোলেন, “কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করা হচ্ছে? কেন অসমে এমন প্রক্রিয়া হচ্ছে না?” তিনি অত্যন্ত আবেগঘনভাবে আদালতকে বলেন, “সুবিচার আজ রুদ্ধ দ্বারে কাঁদছে।”

প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের সুর বজায় রেখে বিজেপি নেতৃত্ব মমতার এই আদালতে উপস্থিত হওয়াকে ‘স্ক্রিপ্টেড ড্রামা’ বা পূর্বপরিকল্পিত নাটক বলে অভিহিত করেছে। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের দাবি, নির্বাচন কমিশন যখন মৃত বা ভুয়া ভোটারদের সরাতে চাইছে, তখন তৃণমূল ভয় পেয়ে এই প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছে এবং রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনে সহায়তার জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত অফিসার নিয়োগ করতে হবে। আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই আইনি লড়াই এখন রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।