আস্তাকুঁড় থেকে কোটি কোটি টাকা! প্লাস্টিকের রাস্তা আর আবর্জনার সারে ভাগ্য বদলাচ্ছে যোগীর উত্তরপ্রদেশ

উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ জনপদ এখন আর কেবল চাষবাসের চেনা ছকে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পরিচ্ছন্নতা ও উদ্ভাবনের এক নতুন বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অনুপ্রেরণায় রাজ্যে চালু হওয়া ‘ওয়েস্ট টু ওয়েলথ’ (বর্জ্য থেকে সম্পদ) মডেলটি গ্রামের ছবিটা আমূল বদলে দিয়েছে। এখন আর রাস্তার ধারে জঞ্জাল পড়ে থাকে না, বরং সেই প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী রাস্তা এবং পচনশীল আবর্জনা থেকে তৈরি জৈব সার এনে দিচ্ছে কোটি কোটি টাকার মুনাফা।

পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের পরিচালক অমিত কুমার সিং জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের লখনউ, রামপুর, আমেথি, ললিতপুর এবং এটার মতো জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এটি টেকসই উন্নয়নের এক বলিষ্ঠ উদাহরণ। প্রকল্পের আওতায় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি করা হচ্ছে ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। তথ্য অনুযায়ী, এই সার বিক্রি করে পঞ্চায়েতগুলি এখন পর্যন্ত ৩ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটগুলি থেকে বাড়তি ২৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

‘পরিষ্কার গ্রাম অভিযান’-এর আওতায় আবর্জনাকে এখন আর আপদ নয়, বরং সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মডেলটি একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ রোধ করছে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় তৈরি করছে নতুন কর্মসংস্থান। যোগী সরকারের লক্ষ্য হলো, রাজ্যের প্রতিটি গ্রামকে এই সাফল্যের অংশীদার করা। এই দূরদর্শী পরিকল্পনার হাত ধরে উত্তরপ্রদেশের গ্রামগুলি এখন দ্রুত আধুনিক, স্বচ্ছ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছে।