“ভারতীয় পরিচয় ঘৃণা করি, আমরা কোরিয়ান!” গাজিয়াবাদে ৩ বোনের আত্মহত্যার নেপথ্যে ভয়ংকর ‘কে-পপ’ নেশা!

গাজিয়াবাদের সেই মর্মান্তিক তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় এবার সামনে এল এক শিউরে ওঠা তথ্য। মঙ্গলবার রাতে ৯ তলার ফ্ল্যাট থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিশিকা, প্রাচী ও পাখি প্রাণ দিলেও, তাদের মৃত্যুর কারণ কোনো আর্থিক অনটন বা সাধারণ অবসাদ নয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মৃতদের বাবার বয়ানে উঠে আসছে ভিনদেশি সংস্কৃতি ও ‘কে-পপ’ (K-Pop)-এর প্রতি এক মারণ আসক্তির কাহিনী।
মৃত তিন বোনের বাবা চেতন কুমার জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েরা ভারতীয় পরিচয়কে কার্যত ঘৃণা করতে শুরু করেছিল। সবসময় জেদ ধরত কোরিয়া যাওয়ার জন্য। বাবা যখনই তাদের ভারতীয় ঐতিহ্য বা পরিচয়ের কথা মনে করাতেন, তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠত। এমনকি ভারতীয় পরিচয়ের কথা শুনে তারা খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল।
তদন্তে জানা গেছে, তিন বোন সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পূর্ণ নিজেদের পরিচয় বদলে ফেলেছিল। তারা ‘মারিয়া’, ‘এলিজা’ এবং ‘সিন্ডি’—এই তিনটি কোরিয়ান ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট চালাত এবং সেখানে তাদের হাজার হাজার ফলোয়ার ছিল। গত কয়েক মাস ধরে তারা দিনরাত কোরিয়ান ড্রামা, থাই ও জাপানি সংগীত এবং নানা সারভাইভাল গেমে বুঁদ হয়ে থাকত। এই উন্মাদনা রুখতে ১০ দিন আগে বাবা তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেন, যা তাদের চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে আবেগ ও ক্ষোভের এক অদ্ভুত মিশ্রণ লক্ষ্য করা গেছে। ডায়েরিতে তারা লিখেছে, “তোমাদের সাহস কী করে হলো আমাদের জীবন থেকে কোরিয়াকে কেড়ে নেওয়ার? আমরা আমাদের পরিবারের চেয়েও বেশি কোরিয়ান অভিনেতা ও কে-পপ গ্রুপকে ভালোবাসি। কোরিয়া আমাদের ভালোবাসা নয়, আমাদের জীবন।” এমনকি তাদের আরেক বোন ‘দেবু’কে তারা শত্রু মনে করত, কারণ সে ভারতীয় সংস্কৃতি বা বলিউড পছন্দ করত।
এই ঘটনা সাইবার আসক্তি ও ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতি অন্ধ মোহের এক ভয়াবহ রূপ তুলে ধরেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে কোনো অনলাইন ‘টাস্ক বেসড গেম’ তাদের এই আত্মহননের পথে উস্কানি দিয়েছিল কি না।