“বিন ভবন, বিনা ওপিডি-তে কেমন ডাক্তার?” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নে শোরগোল!

সায় সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্যামবিহারী জয়সওয়াল যখন গত দুই বছরের ‘সাফল্য’ এবং আগামী তিন বছরের পরিকল্পনার খতিয়ান পেশ করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই পরিকাঠামোহীন মেডিক্যাল কলেজগুলো নিয়ে ধেয়ে এল একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠল— বিল্ডিং নেই, ওপিডি নেই, নেই আইসিইউ-ও; তবে কি কেবল খাতায়-কলমে পড়াশোনা করেই আগামী দিনে মানুষের প্রাণ বাঁচাবেন এই হবু চিকিৎসকরা?

নয়া রায়পুরের ছত্তিশগড় সংবাদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত দুই বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার খোলনলচে বদলে ফেলা হয়েছে। জেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজ— সর্বত্রই পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি করেন তিনি। কিন্তু বাস্তব চিত্র যে ভিন্ন, তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেই স্পষ্ট হয়ে যায়। রাজ্যের তিনটি মেডিক্যাল কলেজে বিগত দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই এমবিবিএস পঠনপাঠন চলছে। সাংবাদিকদের কড়া প্রশ্ন ছিল, “যেসব ছাত্ররা ওপিডি বা প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিংয়ের সুযোগই পাচ্ছে না, তারা দু’বছর পর ডাক্তার হয়ে বেরোলে রোগীদের সুরক্ষা কোথায় থাকবে?”

এই জ্বলন্ত প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক মেজাজে দেখা যায় মন্ত্রীকে। তিনি সরাসরি জবাব এড়িয়ে সাফাই দেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকে অনেক সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তাঁর কথায়, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় টেন্ডার হলেও কাজ থমকে ছিল। কোরবাতে জমি বিবাদ, মহাসমুন্দে বিদ্যুতের লাইনের সমস্যা আর কাঙ্কেরে বনবিভাগের ছাড়পত্র না থাকায় নির্মাণকাজ শুরুই করা যায়নি। আমরা সেই জট কাটিয়েছি।”

মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই তিনটি মেডিক্যাল কলেজের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসমুন্দ মেডিক্যাল কলেজের ৬২ শতাংশ এবং কোরবার ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও ঠিকাদারদের আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, তবে সরকারের দাবি— প্রথম ব্যাচের ছাত্ররা নতুন ভবনেই শিক্ষা শেষ করার সুযোগ পাবেন।

পাশাপাশি মানবসম্পদ নিয়ে মন্ত্রী জানান, গত দুই বছরে প্রায় ১৬৩৯ জন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং ২৩০০টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতি মাসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে প্রশ্নটা থেকেই গেল— আধুনিক ভবন আর উন্নত ল্যাবরেটরি ছাড়া কি সত্যিই দক্ষ ডাক্তার তৈরি সম্ভব? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।