সংসদে নজিরবিহীন কাণ্ড! মোদীর ভাষণ ছাড়াই পাস ধন্যবাদ প্রস্তাব, ২২ বছর পর ফিরল ২০০৪-এর ইতিহাস

ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এক বিরল ও অসাধারণ পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল লোকসভা। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোনও উত্তর ছাড়াই পাস হয়ে গেল রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়াই এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলো।
হট্টগোলের জেরে ব্যাহত প্রক্রিয়া: বুধবারই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বিরোধী সাংসদদের ক্রমাগত স্লোগান ও প্রবল বিক্ষোভের জেরে স্পিকার ওম বিড়লা সভা মূলতবি করতে বাধ্য হন। বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশন শুরু হলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ ছিল না। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস করিয়ে নেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী ও জেনারেল নারাভানে বিতর্ক: বিরোধী দলের সাংসদদের অভিযোগ, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য পেশ করতে বাধা দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ২০২০ সালের ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেওয়া নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। এই ইস্যুতে বিরোধীরা সংসদীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে সরব হন।
কড়া পদক্ষেপ স্পিকারের: মঙ্গলবারই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আটজন কংগ্রেস সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বিরোধীদের আরও উত্তেজিত করে তোলে। বিক্ষোভের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্পিকার দুপুর ২টো পর্যন্ত সংসদ মূলতবি করে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছাড়াই প্রস্তাব পাস হওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অস্থির অধ্যায়কেই প্রতিফলিত করছে।