ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ট্রাম্প সব জানলেও জয়শঙ্কর অন্ধকারে? মোদী মন্ত্রিসভায় তুঙ্গে সমন্বয়হীনতা!

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে খোদ মোদী মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। শুল্ক হ্রাস এবং রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যেখানে হোয়াইট হাউস থেকে শুরু করে মার্কিন আইন প্রণেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, সেখানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যে দেখা দিয়েছে চরম বৈপরীত্য।

অন্ধকারে বিদেশমন্ত্রী? বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে জানান যে, প্রস্তাবিত চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তিনি সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় জড়িত নন এবং এর উত্তর বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলই ভালো দিতে পারবেন। জয়শঙ্করের এই মন্তব্য চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে একটি ‘সম্পন্ন চুক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছেন, সেখানে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কাছে কেন বিস্তারিত তথ্য নেই, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

পীযূষ গোয়েলের রহস্যজনক অবস্থান: অন্যদিকে, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল লোকসভায় দাবি করেছেন যে আলোচনা চলছে এবং ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থ রক্ষায় অনড়। তবে ট্রাম্প যেখানে স্পষ্টভাবে ভারতে মার্কিন পণ্য আমদানিতে শুল্ক ‘শূন্য’ করার কথা বলছেন, সেখানে গোয়েল সংসদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি। এতে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, হয় চুক্তি সম্পর্কে তাঁর সম্যক জ্ঞান নেই অথবা তিনি কৌশলগত কারণে তথ্য গোপন করছেন।

ট্রাম্পের সেই বিস্ফোরক ঘোষণা: উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা থেকে তেল কিনতে সম্মত হয়েছে। বদলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৮% করবে। এমনকি ভারত মার্কিন পণ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান। আগামী সপ্তাহে যৌথ বিবৃতি আসার কথা থাকলেও, ভারতের তরফে এই গোপনীয়তা কেন, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে কৃষক সংগঠন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে।