লখনউতে তিন বোনের রহস্যময় মরণঝাঁপ! ফ্ল্যাটের দেওয়ালে ‘কাটাকুটি’র আড়ালে কোন ভয়াবহ গেম?

লখনউয়ের একটি বহুতলের ৯ তলার ফ্ল্যাট। ঘর জুড়ে এক অদ্ভুত থমথমে নিস্তব্ধতা। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা চিরে চিৎকার করছে দেওয়ালের কাঁচা হাতের লেখাগুলো। পেনসিলের স্কেচ, অর্ধেক লেখা লাইন আর তার ওপর বারবার হিজিবিজি করে কাটা চিহ্ন—যা দেখে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও। রোমান হরফে লেখা রয়েছে, “আমি খুব একা। আমার মন ভেঙে গেছে।” এই ট্র্যাজিক দৃশ্যটি সেই তিন কিশোরী বোনের ফ্ল্যাটের, যারা গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ৮০ ফুট ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। ১৪, ১৬ এবং ১২ বছর বয়সী তিন বোন মারিয়া, আলিজা এবং সিন্ডি নিজেদের ‘কোরিয়ান প্রিন্সেস’ মনে করত।
রহস্যময় ‘ডেথ কমান্ডারের’ উপস্থিতি: পুলিশ তদন্তে নেমে উদ্ধার করেছে একটি ডায়েরি, যেখানে লেখা রয়েছে এক ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জের কথা। “এখন তুমি বুঝতে পারবে যে গেম আমাদের ছাড়তে বলছিলে, সেগুলো আমার কাছে কতটা কাছের”—ডায়েরির এই লাইনগুলি ঘনীভূত করছে রহস্য। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিন বোনের মধ্যে মেজ বোনই হয়তো ছিল ‘বস’ বা ‘ডেথ কমান্ডার’। এই বিশেষ রোলটি গেমে অন্যদের মরণঝাঁপ দিতে প্ররোচিত করে। মনোবিজ্ঞানী ডা. মানিনি শ্রীবাস্তব জানান, লেখার ওপর বারবার ওই ক্রশ মার্ক বা কাটাকুটি মানসিক দ্বন্দ্ব এবং চরম বিপন্নতার লক্ষণ।
পারিবারিক জটিলতা ও আর্থিক অনটন: মৃত কিশোরীদের বাবা চেতন কুমার একজন স্টক ট্রেডার। জানা গেছে, বাজারে তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকার দেনা। চরম অর্থাভাবে ইলেকট্রিক বিল মেটাতেও নিজের মেয়েদের ফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। গত দুই বছর ধরে মেয়েদের স্কুলের বেতন বকেয়া ছিল, তাঁরা স্কুলেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বাবার টনক নড়েছিল অনেক দেরিতে। ঘটনার দিন দশেক আগে তিনি জানতে পারেন তাঁর মেয়েরা অনলাইন ‘গেম অ্যাডিকশনের’ শিকার। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেন।
কোরিয়ান ‘লাভ গেম’-এর মরণফাঁদ: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই কিশোরীরা একটি কোরিয়ান টাস্ক-বেসড ‘লাভ গেম’-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। যেখানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ দেওয়া হতো। বাবা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ডিলিট করে দেওয়ায় হয়তো তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল অথবা গেমের ‘ফাইনাল টাস্ক’ হিসেবেই এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তিন বোন নাওয়া, খাওয়া, ঘুম—সবই একসঙ্গে করত। মৃত্যুর পথেও তাঁরা প্লাস্টিকের টুলের সাহায্যে জানলায় উঠে হাত ধরাধরি করে ৮০ ফুট নীচে মরণঝাঁপ দেয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।