পিএফ তোলা এবার হবে বন্ধুর পাঠানো মেসেজের মতো সহজ! বড় চমক দিচ্ছে ইপিএফও

কর্মজীবী মানুষের কাছে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) হলো চরম বিপদের বন্ধু। মেয়ের বিয়ে, নতুন বাড়ি তৈরি বা চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনে এই জমানো টাকাই সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু এই টাকা তুলতেই অধিকাংশ সময় কর্মীদের কালঘাম ছুটে যায়। অনলাইনে আবেদন করার পর দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় অনুমোদনের জন্য। তবে আপনার সেই ঝামেলার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO) তাদের ব্যবস্থাকে এতটাই অত্যাধুনিক বা ‘হাই-টেক’ করতে চলেছে যে, আগামী দিনে ফোন থেকে টাকা পাঠানোর মতোই সহজে পিএফ-এর টাকা তোলা যাবে।

মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্টে আসবে টাকা: EPFO তাদের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আমূল বদলে ফেলতে তৈরি করেছে “EPFO 3.0″। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে চলেছে টাকা তোলার পদ্ধতিতে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই ইপিএফও ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) ব্যবহার করে দাবি নিষ্পত্তির সুবিধা দিতে পারে। এর জন্য ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর সাথে হাত মিলিয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে BHIM অ্যাপের মাধ্যমে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। আপনার অনুরোধ যাচাই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে পৌঁছে যাবে।

তিন দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: বর্তমানে অসুস্থতা বা জরুরি দরকারে অনলাইনে পিএফ তোলার আবেদন করলে অটো-মোডেও কমপক্ষে ৩ কার্যদিবস সময় লাগে। কিন্তু নতুন ইউপিআই সিস্টেম চালু হলে এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বিবাহ, শিক্ষা বা অসুস্থতার মতো বিভাগে আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাকএন্ডে যোগ্যতা যাচাই হবে এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) গেটওয়ের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।

এটিএম থেকেও মিলবে নগদ টাকা: শুধু ইউপিআই নয়, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও এক বিপ্লবী পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। ইপিএফও কর্মীদের জন্য একটি “বিশেষ কার্ড” ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে, যা হুবহু ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করবে। অর্থাৎ, সঙ্কটের সময় নিজের পিএফ অ্যাকাউন্টের টাকা আপনি যেকোনো এটিএম থেকে কার্ড পাঞ্চ করেই তুলে নিতে পারবেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর সহযোগিতায় এর কারিগরি কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে এই উত্তোলনের ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে।