ট্রাম্পের সাথে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মোদীর! ১৮ শতাংশ শুল্ক কমছে ভারতীয় পণ্যে, ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত এক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পর সোমবার এই বড় ঘোষণা সামনে আসে। এই চুক্তির ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর ফলে বস্ত্র, চামড়া এবং সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন।

চুক্তিটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো গোপন রাখা হলেও, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল লোকসভায় আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতের সংবেদনশীল কৃষি, দুগ্ধ এবং মৎস্য খাত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী সবসময় আমাদের অন্নদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার সাথে চুক্তির মতোই আমেরিকার ক্ষেত্রেও কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।” তবে সূত্রের খবর, বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

বিরোধীদের সুর ও সরকারের অবস্থান: এদিকে এই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বুধবার জয়রাম রমেশ এবং রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, সরকার চুক্তির সম্পূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে আনছে না। তাঁদের দাবি, ১৮ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণকে ‘জয়’ হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ভারতীয় বাজারের জন্য কতটা ক্ষতিকর হবে তা স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির চাপে পড়ে সরকার হয়তো কৃষি পণ্যের আমদানিতে বড় ছাড় দিয়ে ফেলেছে।

পাল্টা জবাবে পীযূষ গোয়েল জানান, বিরোধীরা সংসদে হট্টগোল করে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন বলেই প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এই খুশির খবর জানানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য এখন বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী হবে। মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে এলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে সিলমোহর পড়বে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে।