৫০ বছর পর হঠাৎ সামনে স্কুলের বন্ধুরা! ছেলের দেওয়া জন্মদিনের সারপ্রাইজে অঝোরে কাঁদলেন বৃদ্ধ বাবা

আজকের যুগে জন্মদিন মানেই যখন দামি রেস্তোরাঁয় ডিনার, বিলাসবহুল উপহার আর কেবল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের চাকচিক্য, ঠিক তখনই মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের এক যুবক যা করে দেখালেন, তা দেখে আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া। নাম তাঁর গৌরব রাইতে। নিজের বাবার ৬২তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে তুলতে গৌরব এমন এক উপহার বেছে নিলেন, যার কোনো আর্থিক মূল্য হয় না, কিন্তু যা হৃদয়ের খুব কাছের।
গৌরবের বিশ্বাস, বন্ধুরা মিলে জন্মদিন উদযাপনের আনন্দ যদি আমরা পেতে পারি, তবে আমাদের বাবা-মায়েরও সেই একই অধিকার আছে। তাই বাবার জন্মদিনে তিনি শুরু করেন এক ‘গোপন মিশন’। প্রায় ৫০ বছর আগে বাবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্কুলের বন্ধুদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব নেন তিনি। দিনরাত এক করে সোশ্যাল মিডিয়া ও পুরনো সূত্র কাজে লাগিয়ে একে একে খুঁজে বের করেন বাবার সেই পুরনো বন্ধুদের, যাঁদের সাথে শেষবার স্কুলের গণ্ডিতে দেখা হয়েছিল।
অশ্রুসজল সেই মহামিলন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গৌরব তাঁর বাবাকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁর ছাদে পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে পা রাখতেই বৃদ্ধ থমকে যান। সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর শৈশবের সেই হারানো সঙ্গীরা, যাঁদের তিনি হয়তো আর কোনোদিন দেখার আশা করেননি। মুহূর্তের মধ্যে ৬২ বছরের অবসরপ্রাপ্ত প্রৌঢ় যেন ফিরে গেলেন তাঁর সেই চঞ্চল স্কুলজীবনে। আবেগে আপ্লুত হয়ে বন্ধুদের জড়িয়ে ধরেন তিনি। বন্ধুরা তাঁকে মালা পরিয়ে দেন এবং সবাই মিলে একসাথে কেক কাটেন।
এই হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা গৌরবের এই চিন্তাশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “বাবা-মায়ের জন্য তাঁদের পুরনো অমলিন স্মৃতির চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না।” ভিডিওটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বস্তুগত সুখের চেয়েও পুরনো বন্ধুত্বের টান আর স্মৃতির মূল্য অনেক বেশি।