মানুষ না কি পিশাচ! ১৩ বছরের কিশোরীকে খাটের বক্সে বন্দি করে উপরেই ঘুমাচ্ছিল মালিক, শিউরে ওঠা ভিডিও ভাইরাল

আধুনিক সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার দাসত্বের চিত্র প্রকাশ্যে এল অসমের গুয়াহাটিতে। ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে পরিচারিকা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে নয়, বরং পুলিশের নজর এড়াতে তাকে খাটের নিচের একটি বাক্সে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় মালিক পক্ষ ওই খাটের ওপরেই নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধারের রোমহর্ষক দৃশ্য: রবিবার সন্ধ্যায় জেলা শ্রম টাস্ক ফোর্সের একটি দল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুয়াহাটির ওই বাড়িতে হানা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই এই অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, একটি খাটের তোষক সরিয়ে তার নিচে থাকা স্টোরেজ বক্সের ভেতরে ১৩ বছরের মেয়েটিকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উদ্ধারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
দীর্ঘদিনের শোষণ: তদন্তে জানা গেছে, গত ৬ বছর ধরে ওই নাবালিকা সেখানে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। উল্লেখ্য, ভারতে নাবালিকাকে পরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এতদিন ধরে চলছিল এই অমানবিক অত্যাচার।
তীব্র সমালোচনা: পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়েটিকে বাক্সে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যরা দিব্যি ওই বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। মানবাধিকার এবং শিশু অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই ঘটনা বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কিশোরীটিকে জেলা টাস্ক ফোর্সের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।