উত্তরপ্রদেশে চাইনিজ মাঞ্জা মানেই জেল! প্রাণ গেলেই খুনের মামলা, যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার’ হুঙ্কার

ঘুড়ি ওড়ানোর শখ কি এবার প্রাণ কেড়ে নেওয়ার হাতিয়ার? উত্তরপ্রদেশে চাইনিজ মাঞ্জার কারণে একের পর এক মর্মান্তিক মৃত্যুতে এবার কঠোরতম পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যজুড়ে নিষিদ্ধ করা হলো বিপজ্জনক ‘চাইনিজ সুতো’ বা মাঞ্জা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মাঞ্জার কারণে যদি কারও মৃত্যু ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মামলা (Murder Case) দায়ের করা হবে।
মর্মান্তিক মৃত্যুই কি মোড় ঘোরাল? সম্প্রতি লখনউতে এক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের গলা কেটে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু পুরো রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা গলায় মাঞ্জা জড়িয়ে তিনি ছটফট করতে করতে প্রাণ হারান। গত এক বছরে এই ধরনের অন্তত আটটি ঘটনা নজরে আসার পর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে চাননি যোগী। কর্মকর্তাদের কড়া ভাষায় তিনি প্রশ্ন করেন, “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে বাজারে এই মাঞ্জা মিলছে?”
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: ১. খুনের ধারা: এখন থেকে চাইনিজ মাঞ্জা জনিত যেকোনো মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ‘হত্যা’ হিসেবে গণ্য হবে। ২. পুলিশি অভিযান: উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি জেলায় পুলিশকে চিরুনি তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানেই এই সুতো পাওয়া যাবে, তা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ৩. নেটওয়ার্ক ধ্বংস: মাঞ্জা তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে সাপ্লাই চেইন—পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসনের ওপর তলা থেকে এই অভিযানের নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কোনো স্তরে গাফিলতি ধরা পড়লে রেহাই পাবেন না পুলিশ আধিকারিকরাও। সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষাই এখন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে অগ্রাধিকার।