সংসদে বই-যুদ্ধ! রাহুলকে রুখতে ৪০টি বইয়ের পাহাড় আনলেন নিশিকান্ত দুবে, ফাঁস হবে গান্ধী পরিবারের ‘আসল ইতিহাস’?

সংসদের অন্দরে এবার এক নজিরবিহীন ‘বই-যুদ্ধ’ (Battle of Books)! প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নরবনের (General MM Naravane) একটি অপ্রকাশিত বই নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। রাহুল গান্ধীর আক্রমণের পালটা দিতে এবার ময়দানে নামলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey)। গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেসের ‘অন্ধকার অতীত’ ফাঁস করতে সংসদে সরাসরি ৪০টি বইয়ের একটি তালিকা পেশ করেছেন তিনি।
কীভাবে শুরু এই বিবাদ? চলতি সপ্তাহের শুরুতে লোকসভায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত নিয়ে সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ এবং জেনারেল নরবনের একটি ‘অপ্রকাশিত বই’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিশানা করেন। বুধবার রাহুল গান্ধী সেই বইয়ের একটি প্রতিলিপি হাতে নিয়ে সংসদ চত্বরে হাজির হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিশিকান্তর ৪০টি ‘অস্ত্র’: রাহুলের এই পদক্ষেপের পালটা দিতে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ ৪০টি বইয়ের একটি সিরিজ পোস্ট করেন। তাঁর দাবি, এই বইগুলোই ভারতের ‘আসল ইতিহাস’ বর্ণনা করে। জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে নেহরু-গান্ধী পরিবারের বংশবাদী রাজনীতি—সবই এই বইগুলোতে নথিভুক্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এমন অন্তত ১৫০টি বই রয়েছে যা কংগ্রেস শাসনের দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং অনৈতিক সম্পর্কের পর্দাফাঁস করে।
সংসদে হাঙ্গামা: নিশিকান্ত দুবে লোকসভায় সেই বইগুলির কিছু অংশ পড়ে শোনানোর চেষ্টা করলে বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি জানায়। দুবের যুক্তি, অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিতর্ক না করে, ইতিমধ্যে প্রকাশিত এবং জনসমক্ষে থাকা এই বইগুলির তথ্যের ওপর সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। এই রাজনৈতিক তরজার জেরে সংসদ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।