“ভারতীয় নয়, পড়ব কোরিয়ান স্কুলে!” গাজিয়াবাদে ৩ বোনের আত্মহত্যার নেপথ্যে কি ভয়ংকর ‘K-Pop’ আসক্তি?

দিল্লির অদূরে ইন্দিরাপুরমের অভিজাত বহুতল থেকে তিন বোনের মরণঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। এতদিন মনে করা হচ্ছিল, বাবার মাথার ওপর থাকা বিপুল ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছে কিশোরীরা। কিন্তু আজ মৃতদের বাবা চেতন গুর্জর সংবাদমাধ্যমের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর মতে, কোনো আর্থিক সংকট নয়, বরং কোরিয়ান কালচার বা ‘K-World’-এর প্রতি মারাত্মক আসক্তিই তাঁর তিন সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কোরিয়া যাওয়ার জেদ ও ভার্চুয়াল জগত চেতন গুর্জর জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বাড়িতে কোরিয়ান সিনেমা, মিউজিক এবং লাইফস্টাইল নিয়ে চরম অশান্তি চলছিল। মেয়েরা সারাক্ষণ কোরিয়ান পপ (K-Pop) এবং ড্রামায় মজে থাকত। তাদের একটাই দাবি ছিল—তাদের কোরিয়া পাঠিয়ে দিতে হবে, তারা সেখানেই পড়াশোনা করবে। এমনকি স্কুলের শিক্ষকরাও চেতনকে সতর্ক করেছিলেন যে, মেয়েদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটালে তারা পড়াশোনায় মন দিতে পারবে না।

আত্মহত্যার রাতের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চেতন জানান, ঘটনার দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মেয়েরা মোবাইলে কোরিয়ান কন্টেন্ট দেখছিল। মোবাইল কেড়ে নিতে চাইলে তারা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিত। বাবার দাবি, “ঋণের কারণে আমার মেয়েরা মরেনি। ওরা নিজেদের একটা কাল্পনিক কোরিয়ান জগতে বন্দি করে ফেলেছিল। সেই জগত থেকে বেরিয়ে আসতে না পেরেই ওরা এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিয়েছে।”

নিষিদ্ধ করার দাবি সন্তানহারা বাবা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যেন কোরিয়ান কন্টেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত পেজগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। তাঁর কথায়, “আজ আমার তিনটে মেয়ে গেল, কাল যেন আর কারোর সন্তানকে এভাবে হারাতে না হয়। এই আসক্তি উইপোকার মতো আমাদের সন্তানদের মস্তিষ্ক কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।” পুলিশ বর্তমানে মেয়েদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।